লাইফস্টাইল

বিমানবন্দর-বিয়ে বা অফিস পার্টিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে বলেন চিকিৎসকেরা

বিমানবন্দর-বিয়ে বা অফিস পার্টিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে বলেন চিকিৎসকেরা

বিমানবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা অফিসের পার্টিতে নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের আয়োজন থাকে। ব্যস্ততার কারণে অনেকেই বিমানবন্দরে স্যান্ডউইচ কিনে খান, বিয়ের অনুষ্ঠানে বুফে থেকে বিভিন্ন পদ বেছে নেন কিংবা অফিসের আয়োজনে ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার উপভোগ করেন। তবে এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক না হলে দেখা দিতে পারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে চিকিৎসকের মতে, বাইরে খাওয়ার সময় খাবারের ধরন বাছাইয়ের পাশাপাশি এর সতেজতা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব খাবার নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো ঠিকভাবে রাখা না হলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

বিমানবন্দরে খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা

বিমানবন্দরে যাত্রার আগে অনেকেই চিকেন বা ডিমের স্যান্ডউইচ কিনে খান। এসব খাবার নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। তবে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিজে সংরক্ষণযোগ্য খাবার ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচের তাপমাত্রায় রাখতে হয়। পচনশীল খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এ সময়সীমা এক ঘণ্টা। এই কারণে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে তাজা খাবার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

বিয়ের অনুষ্ঠানে বুফে খাবারে ঝুঁকি

বিয়ের অনুষ্ঠানের বুফেতে নানা ধরনের খাবার থাকলেও সেগুলোর সংরক্ষণ ও পরিবেশনের পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পড়ে থাকা দুধের তৈরি পুডিং বা অন্যান্য মিষ্টান্নে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। একইভাবে অপরিচিত উৎসের কাঁচা সালাদ, আগে থেকে কেটে রাখা ফল এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিবেশিত খাবার থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। খাবার দূষিত হলেও সব সময় তার রং, গন্ধ বা স্বাদে পরিবর্তন দেখা যায় না। তাই বুফেতে খাবার নেওয়ার আগে পুরো আয়োজনটি একবার দেখে নেওয়া উচিত। পছন্দের খাবারের পাশাপাশি সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ পদ বেছে নেওয়া এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

অফিস পার্টিতে ভাজাপোড়া ও নোনতা খাবারে নিয়ন্ত্রণ

অফিসের বিভিন্ন আয়োজনে পেঁয়াজু, পাকোড়া, স্প্রিং রোল ও ফ্রায়েড চিকেনের মতো খাবার বেশ জনপ্রিয়। তবে এসব খাবারে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেশি হতে পারে। এ ছাড়া সসেজ, সালামির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত চিপস নিয়মিত খেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ ২ হাজার মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত। অর্থাৎ দিনে লবণ গ্রহণের পরিমাণ ৫ গ্রামের নিচে রাখা প্রয়োজন। এই ধরনের অনুষ্ঠানে পছন্দের কয়েকটি খাবার বেছে নেওয়া, হালকা খাবার যুক্ত করা এবং বারবার নাশতা নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামাজিকতা রক্ষার জন্য ক্ষুধা না থাকলেও একের পর এক খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

মেয়োনিজ ও ক্রিমের খাবার কি এড়িয়ে চলতে হবে?

চিকিৎসকের মতে, মেয়োনিজ নিজে থেকেই অনিরাপদ নয়। তবে এটি তৈরির উপাদান, বিশেষ করে ডিম, মাংস বা অন্যান্য পচনশীল খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ক্রিম বা দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টান্নও সঠিকভাবে প্রস্তুত ও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হলে খাওয়া নিরাপদ। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় অনিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা খাবার খেলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অবশিষ্ট খাবার দুই ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পুনরায় খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করতে হবে। খাবারটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটি না খাওয়াই ভালো।

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?

খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা দিতে পারে। তাই এসব ব্যক্তির খাবার নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ হলো, বাইরে খাওয়ার সময় খাবার গরম বা যথাযথভাবে ঠান্ডা আছে কি না, পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন কি না এবং খাবার তৈরির প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা খেয়াল রাখা। পাশাপাশি খাবারে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের সমন্বয় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করা উচিত। তবে স্বাস্থ্যকর থাকার অর্থ পছন্দের সব খাবার বাদ দেওয়া নয়। বরং খাবারের সতেজতা, নিরাপদ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও পরিমিতি বজায় রাখাই বাইরে খাওয়ার সময় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

বিষয়:অফিস খাবার বিমানবন্দর বিয়ে

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…