‘নতুন বারাক ওবামা’ বলা হচ্ছে জন অসফকে, লক্ষ্য হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয়ের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা, তরুণ নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী এই সিনেটরকে। অনেকে তাকে বলছেন ‘নতুন বারাক ওবামা’।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলিমার্কেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন অসফ। তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ২৪ শতাংশ, যা এক দিনেই বেড়েছে ৯ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। আগের দিন এই হার ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই পূর্বাভাসে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের চেয়ে চার শতাংশ পয়েন্ট এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয় পান অসফ। তিনি পেয়েছেন ২৪ লাখের বেশি ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এই আসনটি শুরুতে রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। কারণ, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেতা এই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটর হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ছিলেন অসফ।
জয়ের পর মঙ্গলবার রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন অসফ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব কেবল একজন প্রেসিডেন্টের অন্যায় ঠেকানো নয়, বরং এর নিচে থাকা ভাঙনও সারিয়ে তোলা।’ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে তাকে ব্যর্থ এবং মেয়াদ শেষের পথে থাকা প্রেসিডেন্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রশাসনের পাশাপাশি তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও আক্রমণ করেন অসফ। তার অভিযোগ, ট্রাম্প নিজের আর্থিক স্বার্থে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছেন। তার এই প্রচার কৌশল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। নির্বাচনী তহবিলের জন্য ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদানও সংগ্রহ করেন তিনি।
অসফের বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা, মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয় এবং তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব তাকে আলোচনায় এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতৃত্বের আধিপত্যের মধ্যে তাকে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তার নেতৃত্বের ধরন ও জনসমর্থন তৈরির সক্ষমতার সঙ্গে বারাক ওবামার রাজনৈতিক উত্থানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষক ও সমর্থকদের একাংশ।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে একসময় আলোচনায় এগিয়ে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অবস্থান পিছিয়েছে। পলিমার্কেটে একপর্যায়ে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশে উঠলেও বর্তমানে তা কমে ১৫ শতাংশে নেমেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় এবং ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের কারণে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জন অসফের উত্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বারাক ওবামার সঙ্গে তার তুলনা সেই আলোচনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।





