ছাত্র-জনতার তোপের মুখে গেল সোমবার (৫ আগস্ট) পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার এই পদত্যাগে উল্লাসে মেতে উঠেছেন দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রাথমিক বিজয় বলছেন ছাত্র-জনতা।
তবে এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন সেক্টর পুনরায় অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র লুটপাট এবং হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশের সিনেমা হল, সংস্কৃতিকর্মী, সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট করতে তারা তৎপর হয়েছে।
এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে দেশের সচেতন চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে তিনটায় দেশের প্রথমসারির বেশকিছু গণমাধ্যমের চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা এফডিসি গেটে প্রতিবাদ জানান।
শুরুতে কোটা আন্দোলন ঘিরে গেল জুলাই ও আগস্ট জুড়ে যত প্রাণহানি ঘটেছে প্রত্যেক শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে এরপর বক্তব্য দেন শফিক আল মামুন (প্রথম আলো), জাহিদ আকবর (ডেইলি স্টার), অনিন্দ্য মামুন, (সমকাল), নাজমুল আলম রানা (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর), বুলবুল আহমেদ জয় ( একাত্তর টিভি), আল কাছির (সময় টিভি), প্রতীক আকবর (বিজয় টিভি), পান্থ আফজাল (বাংলাদেশ প্রতিদিন), আলী আফতাব (দেশ টিভি), মুহিব আল হাসান (সময় টিভি), রাজন হাসান (জিটিভি), তারেক আনন্দ (আমাদের সময়), এন আই বুলবুল (জনকণ্ঠ), এটিএম মাকসুদুল হক ইমু (চ্যানের টুয়েন্টিফোর), নাহিয়ান ইমন (চ্যানেল আই অনলাইন), শাহরিন মাহফুজা জেবিন (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর), তামিম হাসান (চ্যানেল টুয়েন্টিফোর), সায়মা স্মৃতি (এখন টিভি), এনআই বুলবুল (জনকণ্ঠ), নিথর মাহবুব (সংবাদ), রিফাত (এটিএন), মারজান ইভান (আরটিভি), বুলবুল ফাহিম (দৈনিক সমকাল), ও মেহেরা রহমান সিমরান (আরটিভি)।
পরে চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা সিনেমা হল এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের নিন্দা জানান, সেইসাথে এসব হিংসাত্মক ঘটনা বন্দের আহ্বান জানান। বর্তমানে দেশে প্রশাসনের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মীরাও রাজপথে নেমেছিলেন। সবার প্রচেষ্টা আন্দোলন সফল হলেও সংস্কৃতি অঙ্গনে ভাঙচুরে কিছুটা হোঁচট এলো। এই হামলা আমাদের সিনেমায় আঘাত করা হলো। এটা অবিলম্বেই রুখতে হবে।
তবে এই প্রতিবাদ সভায় সিনেমার সাংবাদিকরা সামিল হলেও দেখা যায়নি চলচ্চিত্রের কোনো পরিচালক, প্রযোজক কিংবা শিল্পীদের। এসময় সাংবাদিকরা সবার উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাল্টিপ্লেক্স, সিনেমা হল- যাই হোক; যে কোনো সংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা হলে সবার আগে প্রতিবাদ পরিচালক প্রযোজক শিল্পীদের প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করা উচিত ছিলো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এরকম সংগঠিত প্রতিবাদ আমরা এখনো দেখতে পাইনি।
তারা বলেন, বলা হচ্ছে দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু যেভাবে সিনেমা হল এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আঘাত করা হচ্ছে, বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করা হচ্ছে এটা কোনোভাবে স্বাধীন দেশের নমুনা হতে পারে না। এসব ঘটনা যারা করছে তাদের নিন্দা জানাই। স্বাধীনতা যেহেতু এসেছে তাই সবখানে শান্তি সম্প্রীতি বজায় থাকুক।
‘বৈষম্য-বিরোধী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে যে স্বাধীনতা এসেছে এটাকে একটি কুচক্রী মহল বিতর্কিত করা চেষ্টা করছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাল্টিপ্লেক্স-সিনেমা হল ও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তাণ্ডব চালিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের রুখে দিতে হবে।’ বলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে এসময় একজন বলেন, প্রাচ্যনাটের থিয়েটারকর্মী ও জলের গানের মূল সমন্বয়ক রাহুল আনন্দের বাড়ি এবং তার সকল বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যিনি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আসছিলেন। এসব জঘন্য কাজ যারা করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা দরকার। আমরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।








