ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে নতুন কালচারাল স্পেস দরকার: ফারুকী

“যারা গত ১৫ বছর ধরে দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করেছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, তারাই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি।”
স্বাধীনতার ‘পক্ষ ও বিপক্ষ’ শক্তিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিভাজন বা বাইনারিকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করে একথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন পায়রা চত্বরে ডাকসু ও তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শহীদ ওসমান হাদী স্মৃতি বইমেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফারুকী বলেন,“এই বাইনারিটাকে এখন নতুন করে দেখার সময় এসেছে। আজ স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হচ্ছে তারা, যারা ১৫ বছর ধরে আমাদের সার্বভৌমত্বকে কম্প্রোমাইজ করেছে এবং দেশ থেকে নির্বাচন ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়েছে।”
পূর্ববর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,“কে দেশ শাসন করবে, কে মন্ত্রী হবে- এই সিদ্ধান্ত অন্য দেশে বসে নির্ধারিত হতো। আপনি যখন আপনার দেশের সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার অন্য জায়গায় তুলে দেন, আর তারপর নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করেন- এর চেয়ে বড় তামাশা আর কিছু হতে পারে না।”
দেশে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য একটি নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘কালচারাল স্পেস’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তার ভাষায়,“আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের প্রধান হাতিয়ার ছিল সংস্কৃতি। তারা হাই-কালচার ও লো-কালচার—এমন একটি কালচারাল ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল।”
এই ন্যারেটিভ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফারুকী বলেন,“আওয়ামী সংস্কৃতিকেই হাই-কালচার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর বিএনপি, ইসলামি দল কিংবা জিয়াউর রহমান–খালেদা জিয়ার অনুসারীদের লো-কালচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বয়ানের কারণেই ব্যারিস্টার আরমান গুম হওয়ার ঘটনায় তথাকথিত প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের বিবেক নাড়া দেয়নি—কারণ তাদের শেখানো হয়েছিল, তারা হাই-কালচারের অংশ নয়।”
বক্তব্যের শেষাংশে আসন্ন গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে ফারুকী বলেন, চলমান সংস্কার উদ্যোগগুলো টেকসই করতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,“সংস্কারের পক্ষে আপনারা নিজেরা যেমন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, তেমনি আপনাদের বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদেরও ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাই ওমর হাদী। অনুষ্ঠানে মিউজিক ব্যান্ড ‘কাসিদা’, ‘হ্যাভেন টিউন’সহ কয়েকটি শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে।






