বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা ও ফাইন লাইন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ত্বকের যত্নের মাধ্যমে ত্বকের তারুণ্য দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব।
এর জন্য সবসময় দামি প্রসাধনী বা কসমেটিকস সার্জারির প্রয়োজন হয় না।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান
ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, পাকা পেঁপে, ডালিম ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনলও ত্বকের জন্য উপকারী। প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করা যেতে পারে।
এ ছাড়া কাঠবাদাম, আখরোট ও তিসির মতো বাদাম ও বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
ত্বকের বাহ্যিক যত্নে গুরুত্ব দিন
ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে বলিরেখা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। অ্যালোভেরা জেল বা অন্যান্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে।
ত্বকের অকাল বার্ধক্য ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা। বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। মেঘলা দিনেও ইউভি রশ্মি ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে।
মুখ ও গলায় আলতোভাবে ম্যাসাজ করাও আরামদায়ক একটি অভ্যাস হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করা উচিত নয়।
জীবনযাত্রায় আনুন পরিবর্তন
ত্বক ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম ও ব্যায়ামের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও ত্বকের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি কিংবা পছন্দের কাজে সময় দিয়ে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
এ ছাড়া সপ্তাহে কয়েক দিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা নিয়মিত ব্যায়াম করলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
ধৈর্য ধরে অভ্যাসগুলো মেনে চলুন
প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্নে দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম, সূর্য থেকে সুরক্ষা ও ত্বকের উপযুক্ত যত্ন দীর্ঘমেয়াদে ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে কোনো প্রাকৃতিক উপাদান সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


