কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পর্যটন প্রকল্পের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে কক্সবাজারে পাঁচ তারকা মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট উদ্যোক্তা তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং বাংলাদেশের ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছেন। কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে এ সমঝোতা স্মারক সই হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে একটি টেকসই ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও পরিচালনার বিষয়ে মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াতসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বাণিজ্যিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।
মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজোর। ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জেডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট ও হার্ড রক হোটেল পেনাংসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ইউসুফ জোজো বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নতুন একটি অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে তিনি আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিবও তাঁর পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এ প্রকল্পে কাজে লাগানোর আগ্রহ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের অংশ। কক্সবাজারে শুধু একটি হোটেল নয়, আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, সরকারি অনুমোদন ও চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি টেকসই ও বিশ্বমানের গন্তব্য তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।






