আন্তর্জাতিক

হুতিদের কম খরচের ড্রোনের কাছে হুমকিতে সৌদির অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

হুতিদের কম খরচের ড্রোনের কাছে হুমকিতে সৌদির অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সৌদি আরব তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছে। বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়কারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও হুতিদের হামলা মোকাবিলায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশটি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনও নাগরিকদের সেখানে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউরোফাইটার টাইফুন, প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এর অন্যতম কারণ দেশটির বিশাল আয়তন। প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, পবিত্র নগরী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও এত বিস্তৃত এলাকায় সব সময় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে গোষ্ঠীটি তাদের অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করেছে। তাদের হাতে থাকা প্যালেস্টাইন-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া তুফানসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তাদের। এসব অস্ত্রের অনেকগুলোর সঙ্গে ইরানের প্রযুক্তি ও অস্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

হুতিরা বিভিন্ন গতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে আসাও সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগের বিষয়। প্রতিটি হামলা ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের লক্ষ্য প্রতিবার সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করা নয়। মাঝেমধ্যে সফল হামলাও দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার জন্য এসব হামলা উদ্বেগজনক। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বারবার হামলা দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষয়:অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিরাপত্তাব্যবস্থা হুতি হামলা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…