বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, ৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে শহরের ২০টির বেশি সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলতি মাসজুড়েই ভারতের রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ককরোচ যুব আন্দোলনের সমর্থকেরাও এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে।
গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন কার্যক্রমে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং নিখোঁজরা।
সপ্তাহজুড়ে দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় হাজারো মানুষকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারাও রয়েছেন। যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী তাদের বাধা দেন। এ সময় মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি শহরের ২০টির বেশি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ভোট চুরির অভিযোগের অবসান এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করতে চায় দলটি।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুবসমাজ, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং যারা গণতন্ত্র ও ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করেন, তারা এই মিছিলে অংশ নেবেন।
তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের একটি সূত্র। সূত্রটির দাবি, ইমেইলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, সিজেপি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের দাবিতে তাদের নেতারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে দেখা করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের তারিখ না পেলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দলটি।
গত কয়েক মাসে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছে এই যুব সংগঠন। মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এটি তার দল বিজেপির জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।






