দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে গোলাপি রঙের ফায়ার রিটার্ড্যান্ট। হেলিকপ্টার ও এয়ার ট্যাঙ্কার থেকে এই পদার্থ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে রঙিন হয়ে উঠেছে সেখানকার রাস্তাঘাট, বাড়ির ছাদ এবং গাড়ি।
বিবিসি জানিয়েছে, এই পদার্থটি হলো ‘ফস-চেক’ যা পেরিমিটার কোম্পানির তৈরি। ১৯৬৩ সাল থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফায়ার রিটার্ড্যান্ট।
ফস-চেক মূলত আগুনের চারপাশে স্প্রে করা হয়, যাতে এটি আগুনের গতিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮০% পানি, ১৪% সারজাতীয় লবণ এবং ৬% রঙিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী উপাদান। এটি জ্বালানির তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
পেরিমিটার কোম্পানি পরামর্শ দিয়েছে, ফস-চেক যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করা উচিত। হালকা ডিটারজেন্ট মেশানো গরম পানি এগুলো পরিষ্কার করতে কার্যকর। প্রেসার ওয়াশার ব্যবহার করেও এটি পরিষ্কার করা সম্ভব।

যদিও এই ফায়ার রিটার্ড্যান্ট ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে একটি সংগঠন মার্কিন বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করে যে, এই রাসায়নিক মাছ মেরে ফেলছে এবং এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। একজন মার্কিন জেলা বিচারক এই অভিযোগের সাথে একমত হলেও বন বিভাগকে ফস-চেক ব্যবহার চালিয়ে যেতে অনুমতি দিয়েছেন, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) অনুমতি নিতে পারে।
পরিবেশগত প্রভাব কমাতে বন বিভাগ ফস-চেকের একটি নতুন ফর্মুলা ‘এমভিপি-এফএক্স’ ব্যবহার করছে, যা বন্যপ্রাণীর জন্য তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। তবে সংবেদনশীল পরিবেশগত এলাকায়, যেমন জলাধার ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলে, ফায়ার রিটার্ড্যান্ট ফেলা নিষিদ্ধ রয়েছে।
দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়, বিশেষত ক্যালিফোর্নিয়ার প্যারাডাইস শহরের বাসিন্দারা, ফস-চেক ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০১৮ সালের দাবানলে ধ্বংসপ্রাপ্ত এই শহরের তৎকালীন মেয়র বলেছেন, এই পদার্থ আমাদের দাবানলের বিরুদ্ধে একটি লড়াই করার সুযোগ দেয়।








