জনপদ

নাগর নদী দিয়ে বহু মানুষকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের

বিএসএফের সদস্যরা সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বিএসএফের সদস্যরা সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে, বাংলাদেশের নাগর নদীর পাশে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শিশু ও পুরুষসহ শতাধিক বাংলাভাষীকে যেকোনো মুহূর্তে সীমান্ত পার করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানা হেফাজতে থাকা বহু মানুষকে পাঠানোর মতো বিএসএফের এই অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগের কারণে সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ নজরদারি জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের চেষ্টা নস্যাৎ করতে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ পরিকল্পনায় সীমান্ত পার করার জন্য ওপারে বর্তমানে শতাধিক বাংলাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালপোখর থানা হেফাজতে থাকা ১২-১৪ জন শিশু এবং কয়েকজন পুরুষকে যেকোনো মুহূর্তে পুশব্যাক করা হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৫ জুন আরও ২৩-২৪ জনের একটি নতুন গ্রুপকে পুশব্যাকের উদ্দেশ্যে সেখানে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর শহরের পশ্চিমাংশে (বিহার রাজ্যের সীমানার মধ্যে) একটি পরিত্যক্ত রেলওয়ে গুদামঘরকে ডিটেনশন ক্যাম্প (আটক কেন্দ্র) বানানোর যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে বিএসএফ পুশব্যাকের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও ভারতের উত্তর দিনাজপুর সীমান্ত এলাকাকে মূল পয়েন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছে।

​এদিকে ভারতীয় সীমান্তে এই পুশব্যাককে কেন্দ্র করে ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনা চলছে।

ভৌগোলিক কারণে হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নাগর নদী। বর্তমানে পুশব্যাকের জন্য অপেক্ষমাণ অসহায় মানুষগুলোর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে গোয়ালপোখর থানা হেফাজতে থাকা দলটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। এই অবস্থায় নারী ও শিশুদের জোরপূর্বক নাগর নদী পার করে পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হলে যেকোনো সময় নদীতে ডুবে প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিএসএফ যদি জোর করে এই নদীপথে পুশব্যাক করায়, তবে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বড় ধরনের ‘মানবাধিকার কেলেঙ্কারী’ হিসেবে রূপ নিতে পারে।

সীমান্তের ওপারে শতাধিক মানুষকে জড়ো করার খবরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে।

বিষয়:ঠাকুরগাঁও সীমান্ত বিএসএফ বিজিবি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…