আন্তর্জাতিক

ইউরোপজুড়ে বিমান ও প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি, নিরাপত্তা সতর্কতা

ইউরোপজুড়ে বিমান ও প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি, নিরাপত্তা সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে একের পর এক বোমার হুমকিতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। মঙ্গলবার অন্তত সাতটি ফ্লাইট এবং ইসরায়েলগামী একটি প্রমোদতরিতে বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশর একটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ইতালিতে রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজকে পাহারা দিয়ে রোমে নিয়ে যায় দেশটির বিমানবাহিনী। তবে তল্লাশিতে কোথাও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হুমকির মুখে পড়া বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে রায়ানএয়ার, উইজ এয়ার, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স ও পোল্যান্ডের এলওটি। এর মধ্যে রায়ানএয়ারের চারটি ফ্লাইটে বোমার হুমকি দেওয়া হয়।

পোল্যান্ডে ওয়ারশগামী দুটি ফ্লাইটকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়। কোপেনহেগেন থেকে আসা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিরাপদে ওয়ারশ শপিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তল্লাশির সময় একটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে লন্ডনের হিথরো থেকে আসা এলওটির একটি ফ্লাইটকে ওয়ারশর পরিবর্তে মডলিন বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। সেখানেও সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ইতালিতে ডাবলিন থেকে রোমগামী রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটকে দুটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। একই বিমানবন্দরে লিসবন থেকে আসা রায়ানএয়ারের আরেকটি ফ্লাইটেও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। স্পেনে ম্যানচেস্টার থেকে আসা রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইট মুরসিয়া বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বুলগেরিয়ায় ইতালির বার্গামো ও আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে আসা দুটি ফ্লাইটেও তল্লাশি চালানো হয়। কোনো উড়োজাহাজে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

এর আগের দিন সোমবার লন্ডনের লুটন থেকে সোফিয়াগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট মাঝআকাশে বোমার হুমকি পেয়ে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অবতরণ করে। ন্যাটোর সতর্কবার্তা পেয়ে হাঙ্গেরির যুদ্ধবিমান সেটিকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, হিথরো বিমানবন্দরের চারটি ফ্লাইট এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের আরেকটি ফ্লাইট নিয়ে হুমকি পাওয়া যায়। তল্লাশিতে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি পাওয়া যায়নি।

একই দিন রাতে গ্রিসের সাইরোস দ্বীপের কাছে নোঙর করা পানামার পতাকাবাহী প্রমোদতরি ‘ক্রাউন আইরিসে’ও বোমার হুমকি দেওয়া হয়। জাহাজটিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। ইসরায়েলের হাইফাগামী জাহাজটি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক মেলেনি।

এসব হুমকির ঘটনায় কোনো দেশকে দায়ী করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা ও নাশকতার অভিযোগ করে আসছেন। দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিমান চলাচলের ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অসপ্রে ফ্লাইট সলিউশনের কর্মকর্তা রাইস জোনস বলেন, এক দিনে সাতটি বোমার হুমকি পাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। নির্দিষ্ট কোনো দেশ, বিমান সংস্থা বা রুটকে লক্ষ্য না করার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, বিমান চলাচলে সামগ্রিকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টিই এসব হুমকির উদ্দেশ্য।

বিষয়:বন্ধ বিমানবন্দর বোমা হামলা যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হুমকি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…