রাজনীতি

রোববার আওয়ামী লীগ ও সোমবার বিএনপি থাকবে রাজপথে

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতীক সহ রাজপথে জনসমাগম. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

রাজপথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সমাবেশ, প্রতীক সহ জনসমাগমের ছবি।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও হয়ে উঠেছে ঘটনাবহুল। রাজপথে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে প্রায় মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। রোববার (৩০ জুলাই) সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ এবং সোমবার (৩১ জুলাই) জনসমাবেশ করবে বিএনপি।

শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জরুরি সভায় কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর একইদিনে সন্ধ্যায় গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীকাল (৩০ জুলাই) সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখার প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ করা হবে।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বৈঠক, রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সভায় কাদের বলেন, আমরা (আওয়ামী লীগ) যেটা আশঙ্কা করেছি সেটাই হয়েছে। গতকালও এটাই করতে চেয়েছিল বিএনপি। তাদের (বিএনপি) আন্দোলন এক দফা অগ্নিসন্ত্রাস। কিন্তু আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের কারণে এই নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস আবার শুরু হয়ে গেছে। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালের পুনরাবৃত্তি শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চুপ থাকতে পারে না। বিএনপির বলে- তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ঢাকা শহরে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেবে। এটা কি তারেক রহমানের বাপের সম্পত্তি।

অন্যদিকে সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আগামীকাল রোববার (৩০ জুলাই) কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু জানতে পেরেছি- আগামীকাল আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতো একইদিনে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে সংঘাত চাই না আমরা। যে কারণে ৩১ জুলাই কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছি।রংপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

তিনি আরও বলেন, আমরা শুনেছি- গাড়িতে আগুন দেওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পষ্ট খবর বেরিয়েছে- পুলিশের সামনে এসব বাস পুড়িয়ে ভিডিও করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে বাইক চালিয়ে চলে গেছে। কারা এটা করতে পারে, বোঝার জন্য জনগণকে বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিজেরা অপরাধ করে বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে আবারও পরামর্শ দিচ্ছি।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৮ জুলাই) মহাসমাবেশ থেকে শনিবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তবে রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো দলকেই শনিবারের অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণার পর ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগও। কিন্তু ডিএমপি থেকে অনুমতি না পাওয়ায় অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। তবে প্রতিটি থানা ওয়ার্ড কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবেন বলে জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আর দলীয় শক্তি প্রদর্শনের মহড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথ ছিল সংঘাতময়। বিএনপি-আওয়ামী লীগ-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বহু আহত ও ঘটনার পরপরই আটকের ঘটনা ঘটেছে।

বিষয়:জনসমাবেশ বিএনপি-আওয়ামী লীগ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…