সাজেকে অবরোধের মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলি, বাড়ছে মানবিক সংকট

রাঙ্গামাটির সাজেকে ১২ দিন ধরে চলা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আবারও শুরু হয়েছে। রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন অবরোধকারীরা। টানা অবরোধে সাজেকে তীব্র খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ এই অবরোধের ডাক দিয়েছে। সংগঠন দুটির পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় সংকটের সমাধান হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এদিকে, অবরোধের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে সাজেকের কলাবুনিয়া ও দূরদুরিছড়ায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে তিন দফা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাত ও অবরোধের কারণে রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের ঘাটতিতে বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় সেগুলোও নষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আগেই সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সাজেকে অবরোধের ১২তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে পরিবহন চলাচলের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সর্বাত্মক সতর্ক রয়েছে।’





