যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রী এন্টনি ব্লিঙ্কেনের শেষ সংবাদ সম্মেলনে হেনস্তার শিকার হলেন দুইজন সাংবাদিক। গাজা ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করায় তাদের ব্রিফিং রুম থেকে টেনে হিচড়ে বের করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ১৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার শেষ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এন্টনি ব্লিঙ্কেন। এই দিন গাজা ইস্যুতে সাংবাদিকদের একের পর এক তীক্ষ্ম প্রশ্নবানে জর্জরিত হন ব্লিঙ্কেন। এক পর্যায়ে গাজা নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করলে স্যাম হুসেইনি এবং ম্যাক্স ব্লুমেনথাল নামের নামের দুই সাংবাদিকে আলাদাভাবে বের করে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্যাম হুসেইনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ইঙ্গিত করে চিৎকার করে বলেন, ‘অপরাধী! আপনি কেন হেগে নেই।’ স্যামকে বার বার নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান ব্লিঙ্কেন। জবাবে অবজ্ঞার সুরে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘অ্যামনেস্টি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত সবাই যখন বলছে ইসরায়েল গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র চলমান প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাতে বলছে।’
স্যাম হুসেইনি আরো বলেন, ‘আপনি একজন যুদ্ধাপরাধী। আপনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা হওয়া উচিত।’ এরপর তাকে ব্রিফিং রুম থেকে টেনে হিচড়ে বের করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। স্যাম হুসেইনি বলেছেন, আমি চুপচাপ বসেছিলাম। আমাকে দুই তিনজন লোক হেনস্তা করে। তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন না বলার পরে আমি উনাকে প্রশ্ন করেছি।
শান্তি চুক্তি আগে থেকেই থাকলে গাজায় যুক্তরাষ্ট্র কেন বোমা হামলা চালাতে ইসরায়েলকে সব ধরনের সহযোগিতা দিল সেই প্রশ্ন তোলেন আরেক সাংবাদিক ম্যাক্স বলুমেন্থাল। তিনি বলেন, ‘মে মাসে যখন একটি চুক্তি হয়েছিল তখন কেন আপনি বোমা পাঠিয়ে গিয়েছিলেন?’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনামুখর সংবাদমাধ্যম গ্রেজোনের সম্পাদক ব্লুমেনথালকেও নিরাপত্তাকর্মীরা ওই কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
তোপের মুখে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে মামলার তদন্তে নেমেছে ইসরায়েল। তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়া আছে, আইন আছে।







