ক্রিকেট

এক-দুই ইনিংসে বিচার না করার অনুরোধ হৃদয়ের

এক-দুই ইনিংসে বিচার না করার অনুরোধ হৃদয়ের

মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে ভুল শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, প্রশ্ন উঠেছিল তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও। তবে সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন টাইগার ব্যাটার। পরে সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনা নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন হৃদয়। তার মতে, খারাপ খেললে সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এক-দুই ইনিংসের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো ক্রিকেটারকে বিচার করা ঠিক নয়।

সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট যখন বিপর্যস্ত, তখন এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন হৃদয়। ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

এমন ইনিংসের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে মিরপুরে তার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ। জবাবে বলেন, ‘সমালোচনা তো থাকবেই। আপনি আপনার পেশায় বা যেকোনো পেশাতেই সমালোচনা থাকবে। যেদিন আমরা ভালো করি, সেদিন আপনারাই আমাদের জন্য ইতিবাচক কথা বলেন। যেদিন খারাপ করব, সেদিন আপনারাই বলবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। আমার কাছে মনে হয়, সমালোচনা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যদি সেটাকে সঠিকভাবে নিতে পারি।’

তবে কোনো ক্রিকেটারকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ তার। এক-দুই ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে কারও সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পক্ষে নন এই ব্যাটসম্যান। বলেছেন, ‘আপনি নিয়মিত সব জায়গায় পারফর্ম করবেন না। একদিন-দুইদিন হবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্বের সব দলের ক্ষেত্রেই এমন হয়। একদিন-দুইদিনের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে বিচার করাটাও ঠিক নয়।’

তার মতে একই ভুল বারবার হলে সমালোচনা যৌক্তিক বলেই মনে করেন তিনি। বলেছেন, ‘আমরা ভুল করলে অবশ্যই আপনারা সমালোচনা করবেন। সেই অধিকার আপনাদের আছে। তবে এক-দুই ইনিংসে নয়। একই ভুল যদি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে, তখন সমালোচনা করা যায়।’

মিরপুরে যে আক্রমণাত্মক শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সিলেটেও সেই ধরনেই ব্যাটিং করতে দেখা গেছে হৃদয়কে। এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি যদি আক্রমণ করার দাবি করে, তাহলে আক্রমণ করব। কিছু সময় পাল্টা আক্রমণ না করলে সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। কোনো দল পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করার আগে আমাদেরও কিছু না কিছু পাল্টা আক্রমণ করা উচিত। এ কারণেই আমি এটা করতে পছন্দ করি।’

‘ওদের বেশির ভাগ ফিল্ডার পেছনে ছিল। তাই রান করতে গেলে ওপর দিয়েই মারতে হতো। এ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু সিঙ্গেল নিয়ে খুব বেশি কিছু করা যেত না। আমি সঠিক বল ও বোলার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরিকল্পনা করেছি, কোন বোলারকে লক্ষ্য বানানো যায়।’-যোগ করেন হৃদয়।

নিজের মানসিকতায় পরিবর্তন আসার কথাও জানিয়েছেন হৃদয়। বলেছেন, ‘আগে হয়তো অনেক চিন্তা করতাম, কী হবে না হবে। এখন আর ওরকম চিন্তা আসে না। আমার হাতে যেটা আছে, সেটা হলো আমি ঠিকভাবে অনুশীলন করছি কি না, পরিশ্রম করতে পারছি কি না। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বিষয়:ওয়েস্ট ইন্ডিজ কাভেম বাংলাদেশ সিলেট টেস্ট হৃদয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…