ক্রিকেট

দেখে নিন শ্রীলঙ্কার দেয়া অসংখ্য সুযোগ নষ্টের ‘চিত্রনাট্য’

Bangladesh cricket team walking on the field during a match. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

Bangladesh cricket team players walking on the field, with one player raising his hand, in a stadium setting. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের লেজেগোবরে অবস্থা। ইনিংস শুরুর প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিয়ে ক্যাচ মিসের মহড়া দিতে থাকে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত থেকে শুরু করে মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন দিপু থেকে মেহেদী মিরাজ কেউ বাদ যায়নি। সুযোগ নষ্টের মহড়ায় এককাঠি সরেস উইকেটকিপার লিটন দাস। যে শ্রীলঙ্কা আরও আগে অলআউট হতে পারত ফিল্ডারদের ভুলে তারা রান নিয়েছে পাঁচশ’র বেশি। বাংলাদেশ যে সুযোগ নষ্ট করেছে তা কাজে লাগাতে পারলে সফরকারীদের অলআউট করার আগে একবার গুটিয়ে দিতে পারতো শান্তর দল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ডাচ বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ টেস্টে প্রথম ইনিংসে প্রায় দুদিন ব্যাট করে ৫৩১ রান তুলে অলআউট হয়েছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। তিন ব্যাটার সেঞ্চুরির আশা জাগালেও তা হয়নি। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।

ইনিংসের শুরু থেকে তো বটেই, শেষ দিকেও সুযোগ হাতছাড়া করেছে শান্ত-লিটনরা। শেষ থেকেই দেখে নিন সুযোগ হাতছাড়ার ‘চিত্রনাট্য’।

১৪৮.২ ওভার, তাইজুলের বল তুলে মারেন বাঁহাতি কামিন্দু মেন্ডিস। ডিপ ফাইন লেগে থাকা ফিল্ডার হাসান মাহমুদের হাতেই ক্যাচ ছিল। কিন্তু একটু দৌড়ে এসে সেই ক্যাচ ধরতে পারেননি হাসান। এরপর ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন এ ব্যাটার। এর আগে ১১৬.৩ ওভারে আকেরবার জীবন পান কামিন্দু। সেবার বোলার ছিলেন সাকিব আল হাসান। সেবারও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি শান্তবাহিনী।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফেরান পেসার খালেদ আহমেদ। এরপর ব্যাটে নামা স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়াকে আউট হওয়ার সুযোগ আসে। ১২১তম ওভারে খালেদ আহমেদের বলে ক্যাচ উঠলেও তা নিতে পারেননি শান্ত। টাইগার অধিনায়কের হাতছাড়া হলে বল যায় দীপুর হাতে, দীপুর হাত থেকে যায় জাকিরের কাছে, কিন্তু সকলেই হয়েছেন ব্যর্থ।

এরপর ১৩৫.৫ তাইজুলের বলে আবারও ক্যাচ তোলেন জয়সুরিয়া কিন্তু স্টাম্পের পেছনে ক্যাচ নিতে পারেননি লিটন দাস। কামিন্দুর সাথে গড়েন ৬৫ রানের জুটি।

৯৫তম ওভারের খেলা, ব্যাটে লঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। পেসার খালেদ আহমেদের বলে ধনঞ্জয়া অফসাইডের বাইরের বল হালকা করে পুশ করেন। দ্বিতীয় স্লিপে থাকা মেহেদী মিরাজ ক্যাচটি নিতে পারেননি, বেঁচে যান ধনঞ্জয়া। অবশ্য ক্যাচটি একটু কঠিন ছিল তার জন্য। তার দুই বল আগে ডানহাতি এ ব্যাটার একটি বল উড়িয়ে মারেন। স্কয়ারলেগে থাকা ফিল্ডার সাকিবের পৌঁছানোর আগে তা চার হয়ে যায়।

৬৬.৪ ওভারে মিরাজের বলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ক্যাচ তুললেও তা নিতে পারেননি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সেটি স্লিপ এবং উইকেটকিপারের মাঝ দিয়ে চলে যায়। হাত বাড়ালেও সেটি নিতে পারেননি তাদের কেউ।

১৫.১ ওভারে আউটের সুযোগ দেন বাঁহাতি ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে। এবার রান আউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মেহেদী। রান নিতে গিয়ে মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন লঙ্কানদের ওপেনার। কিন্তু সরাসরি থ্রোতে আউট করতে পারেননি। এর আগে ব্যক্তিগত ২২ রানে জীবন পান করুণারত্নে। পরে এ ব্যাটার আউট হন ৮৬ রান করে।

প্রথম দিনের শুরুতেই এসেছিল সুযোগ, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ ডেলিভারি নিশান মাদুশকার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ ওঠে দ্বিতীয় স্লিপে। কিন্তু হাতে জমাতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। ওই ওভারের প্রথম বলে মাদুশকা আরেকবার সুযোগ দিলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

৯ রানে জীবন পেয়ে ফিফটি তুলে নেন লঙ্কান ওপেনার। চট্টগ্রাম টেস্টের মতো সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও স্লিপে ক্যাচ ছেড়েছিলেন জয়। শূন্য রানে বেঁচে গিয়ে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন কামিন্দু মেন্ডিস।

ক্যাচ, ফিল্ডিংয়ের সুযোগ নষ্টের সাথে যোগ হয়েছে বাংলাদেশের বাজে রিভিউ নেয়ার বিষয়টি। অনেকের মতে, ‘ব্যাটের মাঝে লেগেছিল কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য’ শান্তুর নেয়া রিভিউ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাইজুল ইসলামের বল কুশল মেন্ডিসের ব্যাটের মাঝখানে লাগার পরও এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়েছিলেন। বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামস রিভিউয়ের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে আমরা জঘন্য। আমাদের একটা ভালো পন্থা বের করতে হবে।’

বিষয়:করুণারত্নে কামিন্দু চট্টগ্রাম জয় ডি সিলভা দিপু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…