চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের দিন

২৪ মার্চ। এই দিনকে বলা হয় রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের দিন। কোনো ধরনের রক্তপাত ছাড়াই এই দিন ক্ষমতা দখল করেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তবে এই ক্ষমতা দখলের একটি লম্বা প্রেক্ষাপট ছিলো। যেটার শুরু ১৯৪৭ সাল থেকে। ১৯৪৭ সালের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে আমরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র পাই। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ব বাংলার বাঙালিদের মোহ ভঙ্গ হয়। পশ্চিম পাকিস্তানীরা লুণ্ঠন ও ধর্মের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত করতে গিয়ে যা করেন তারা প্রথমেই আমাদের ভাষা অধিকারের উপর হাত দেয়। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই…

মিছিলের উপরে স্বৈরাচারের ট্রাকের চাপায় নিহত ছাত্রলীগ নেতাদের স্মরণ

১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি এক সশত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদারদের পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রের সাংবাধানিক ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ ফিরে যায় পাকিস্তানী ধারায়। বাংলাদেশের উপর চেপে বসে সামরিক শাসনের জগদ্দল পাথর। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ অবৈধভাবে সংবিধান…

ভালোবাসা দিবসে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’?

আজ ফাগুনের প্রথম দিন। মিষ্টি হাওয়ার ঋতু শুরুর এই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ এবং আকাশ সংস্কৃতির দাপটে সব ছাড়িয়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আওয়াজটাই বেশি শোনা যায়। বিদেশী সংস্কৃতি গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়েই আমাদেরকে সামনে এগুতে হবে। তবে অবশ্যই নিজেদের মৌলিক অর্জনগুলোকে বিসর্জন দিয়ে নয়। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের জন্য ভালোবাসার ফুল ফোটেনি। ফুটেছিল দিপালী সাহা, জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, কাঞ্চনের বুকের তপ্ত রক্তের রঞ্জিত হওয়া রাজপথের রক্তাক্ত গোলাপ। সেদিন ছিল স্বৈরাচার প্রতিরোধ…

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: ধূপের মতো নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এক নীরব সংগঠক

৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮ তম জন্মদিন। বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম সূচিত হয়েছিল মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, সেই আন্দোলন কাল পর্বে সংগ্রামের ধারায় শেষ পর্যন্ত বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে যায় চূড়ান্ত সংগ্রামে। যার ফলশ্রুতিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বাংলাদেশ। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার গর্ভধারিনী মা। বেগম মুজিবের শুভ জন্মদিনে তাঁকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।…

মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ আহমেদের বীরত্বগাথা

আমি আজ এক মহান বীরের কথা তুলে ধরতে চাই। নীরবে নিভৃতে অভিমানে অবহেলায় গতকাল যার জীবনের শেষ প্রদীপ নিভে গেছে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ আহমেদ। আবু সাঈদ ভাই ছিলেন চির সংগ্রামী একজন আপোষহীন মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল তাহেরের অনুজ। কর্নেল তাহেরর পরিবারের পাঁচ ভাই ও দুই বোন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একটি পরিবার এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১১ নং সেক্টরেই সাঈদ ভাই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তিনি একজন কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধোত্তর পর্ব রাংলাদেশে সমাজতন্ত্র কায়েম করার…

জয় হোক শেখ হাসিনার

আজ ১৭ মে । ১৯৮১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। এইদিনটিকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয়ী বাঙালির স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশে পদার্পণ করেন ইতিহাসের মহানায়ক বাঙালির কালজয়ী পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই দিনটি ছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি জাতির মুক্তির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আনন্দ-অশ্রুশিক্ত ভালবাসায় বরণ করে নিয়েছিল। কিন্তু, ১৯৭৫…

মে দিবসের দাবি হোক শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিজয়ের এক দিবস হিসেবে দিনটি উদযাপিত হয়। আমাদের দেশেও কখনো আন্দোলন, কখনো উৎসবের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। কিন্তু মে দিবস চলে যাওয়ার পরই শ্রমিকরা তাদের পূর্বতন অবস্থায় চলে যায়, বছর যায় বছর ঘুরে, দিবসটি উদযাপিত হয় কিন্তু শ্রমিকরা থেকে যায় তাদের প্রবঞ্চনাময় অতীতের ইতিহাসে। মে দিবসের ইতিহাস শ্রমিকদের প্রতিবাদী সমাবেশে পুলিশের গুলিবর্ষণে ৬ জন শ্রমিকের ঘটনাস্থলে জীবনদানের ইতিহাস। দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমসময়ের দাবিতে নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি ও কাজের…

জাতীয় বীর কাজী আরেফের মৃত্যুদিনে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

আজ ১৬ ই ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের এদিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ চলাকালীন সময়ে উগ্রপন্থি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদ। কাজী আরেফের জান্ম ১৯৪২ সালের ৮ ই এপ্রিল। কাজী আরেফ ঢাকা কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। স্কুল জীবন থেকেই তাঁর মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৬০ সাল থেকেই আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে…

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

গতকাল ছিল ১ ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আর আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্তের এ দিনে বাগানে ফুটেছে নানা রঙের কত শত ফুল। কত ফুল আজ শোভা পাচ্ছে রমণীর নোটন খোঁপায়। প্রিয় মানুষের সঙ্গে হাতে হাত রেখে চলতে চলতে আজ কত ফুল হবে অনুষঙ্গ। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের জন্য ভালোবাসার ফুল ফোটেনি। ফুটেছিল দিপালী সাহা, জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, কাঞ্চনের বুকের তপ্ত রক্তের রঞ্জিত হওয়া রাজপথের রক্তাক্ত গোলাপ। সেদিন ছিল স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের সচিবালয় অভিমুখে প্রতিরোধ মিছিল। তিন দফা…

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ

আজ ২৪ জানুয়ারি। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৬৯ সালের তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নবকুমার ইন্সটিটিউটের নবম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর। মতিউরের শহীদ হওয়ার সংবাদ বাতাসের মতো ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। দীর্ঘ দিন যাবৎ পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বাংলার ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সূচিত হয় মহান গণঅভ্যুত্থানের। এর আগে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ও ডাকসু আহুত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল বের…