শুল্কমুক্ত ডুপ্লেক্স বোর্ড চোরাচালানের চেষ্টা, ১০ ট্রাক আটক

শুল্কমুক্ত ডুপ্লেক্স বোর্ডের অভিযানে আটক ট্রাকগুলো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন ডুপ্লেক্স বোর্ডবোঝাই ১০টি ট্রাক পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পণ্যগুলোর নির্ধারিত গন্তব্য ছিল খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান।
তবে ট্রাকগুলো খুলনায় না গিয়ে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে খোলাবাজারে পণ্য খালাস ও বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিষয়টি আগে থেকেই জানতে পেরে সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১-এর নেতৃত্বে একটি দল ভাগ হয়ে নয়াবাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।
অভিযানে র্যাব-১০, পুলিশের লালবাগ বিভাগ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইআইডিকে সহযোগিতা করে।
অভিযান চলাকালে নয়াবাজারমুখী বহর থেকে গোয়েন্দাদের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি ট্রাক পালিয়ে যায়।
তবে আগে থেকেই নয়াবাজারে অবস্থান নেওয়া এবং পণ্য বিক্রির প্রস্তুতিতে থাকা একটি ট্রাকসহ মোট ১০টি ট্রাক নিয়ন্ত্রণে নেয় কাস্টমস গোয়েন্দারা। এর মধ্যে ৯টি ট্রাকে ডুপ্লেক্স বোর্ড এবং একটি ট্রাকে অজ্ঞাত পণ্য ছিল। পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে।
আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ‘মেহালী পেপারস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে খুলনার আড়ংঘাটা-তেলিগাতির ‘শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেড’-এর নামে পণ্যগুলো আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে শুল্কায়ন হওয়া এ চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ‘এম এ আজাদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’ এবং পরিবহনের দায়িত্বে ছিল ‘ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস’।
এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী বন্ডেড পণ্যের নির্ধারিত বাইপাস রুট-কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, পোস্তগোলা, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা-ছেড়ে ট্রাকগুলো ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার নয়াবাজারে প্রবেশ করায় গোপন সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
যে আড়তে বন্ডেড এসব কাগজ বিক্রির চেষ্টা চলছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আড়তের নাম প্রকাশ করেনি এনবিআর।
বর্তমানে আটক ট্রাকগুলোর মালিকানা, সিলের অখণ্ডতা, পরিবহন নথি, বন্ড লাইসেন্স এবং রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস ও বন্ড আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






