‘গুলি করতে করতে নিউগিনি প্রপার্টিজে ঢোকে হামলাকারীরা’
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাটের পর আশপাশের কয়েকটি বাড়িসহ স্থাপনায়ও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী বলেন, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন ব্যক্তিকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজধানীর ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তখন পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে হয়। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল অনেক। এ অবস্থায় পুলিশ পিছু হটে। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে চলে যায়।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী বলেন, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা লুটপাট করে। সেখান থেকে তারা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে যায়।
পল্লব আলী আরও বলেন, এরপর হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে গিয়ে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট চালায়। নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাঁদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
রোববার দুপুরে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি হাউজিংয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। জমির দখল–বেদখলকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি তছনছ হয়ে আছে। মেঝেতে পড়ে আছে কাচের টুকরা, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র।
পুলিশ বলছে, নিউগিনি প্রপার্টিজে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ তাদের জমিতে যেতে পারছিল না। পরে এই পক্ষের লোকজন সেখানে যায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সালমান মুক্তাদির গত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে কাঁদতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা কাজ বন্ধ করবেন না।







