হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তা, পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে মেট্রোতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে এমআরটি পুলিশ।
সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ দেন। নিয়মিত দৌড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরে প্রশিক্ষণও করান তিনি।
সাজ্জাদের অভিযোগ, রোববার সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য জাকির তাকে থামান। হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাকে ‘শালীন পোশাক’ পরার কথা বলা হয়। মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরা নিষিদ্ধ এমন কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, বিষয়টি দেখা তার দায়িত্ব।
সাজ্জাদের দাবি, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্যও তার পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান এবং ট্রাউজার পরে আসতে বলেন। এভাবে প্রায় ৪০ মিনিট তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সাজ্জাদ ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে এমআরটি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইতোমধ্যে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ওই পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ট্রেইনার সাজ্জাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’
মেট্রোরেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ড্রেস কোড নেই।
ঘটনাটিকে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এটি সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপ এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রেরও ব্যর্থতা। রাষ্ট্র একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারেনি। প্রাতিষ্ঠানিক পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার হতে হবে এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সব সরকারই একটি মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। যখন সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া কার্যকর থাকে না, তখন মানুষ ধীরে ধীরে এসব অপকর্মে মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়ে।’







