ওজিএসবির ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দেশের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম বৃহৎ এ বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শেপিং দ্য উইমেন’স হেলথ থ্রু সায়েন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ’। প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবন এবং পেশাগত নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।
দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক আয়োজনে মোট ১২টি সেশনে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। এসব সেশনে প্যানেলিস্ট ও পোস্টার উপস্থাপকসহ মোট ৫৪ জন বক্তা তাঁদের গবেষণার ফলাফল, অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সম্মেলনে নবীন ও অভিজ্ঞ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা নিজেদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। ওজিএসবির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিবছর আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সংগঠনটির অন্যতম বড় বার্ষিক বৈজ্ঞানিক আয়োজন।
সম্মেলনে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ম্যাটারনাল-ফিটাল মেডিসিন, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতির ওপর।
ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগমসহ আয়োজকরা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তারা বলেন, বিশেষজ্ঞদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান এবং নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য মা ও নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও নারীর সুস্বাস্থ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি ২০৩০ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় উৎসাহিত করা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মা, নারী, কিশোরী ও নবজাতকের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ওজিএসবি। ভবিষ্যতেও দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।




