যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ গরুর মাংসের দাম বাড়ল কেন!

টেক্সাসের একটি খামারে গবাদি পশু চড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওকলাহোমা ও কানসাস অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। এতে গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির গবাদিপশু শিল্পের বিভিন্ন সংগঠন।
তাদের দাবি, হাজার হাজার গরুর পরিবহন বিলম্বিত হওয়ায় লাখ লাখ ডলারের রাজস্ব ক্ষতি ও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তা পর্যায়ে গরুর মাংসের দামের ওপর।
কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশন, ওকলাহোমা ক্যাটলমেনস অ্যাসোসিয়েশন ও টেক্সাস ক্যাটল ফিডার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তিন রাজ্যের কৃষিপ্রধান এলাকায় আইসের অভিযান নিয়ে তারা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। তাদের ভাষ্য, এসব অভিযানের কারণে গবাদিপশু শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংগঠনগুলো জানায়, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত হাজার হাজার গরুর পরিবহন আটকে গেছে। এতে লাখ লাখ ডলারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিডইয়ার্ড, দুগ্ধ খামার, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, পশুখাদ্য ও শস্য কোম্পানি, পরিবহন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানীয় সেবাখাতেও কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, ‘আইসের এসব অভিযান বৈধ ও নথিভুক্ত দক্ষ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করছে, যারা মানুষের খাবারের জন্য গরুর মাংস সরবরাহ এবং পুরো গবাদিপশু সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশটিতে ১০০ শতাংশ গরুর মাংসের গড় দাম ছিল প্রতি পাউন্ড ৬ দশমিক ৯২ ডলার। উচ্চমূল্যের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের গরুর মাংসসংক্রান্ত নীতি নিয়েও চাপ বাড়ছে। একই সময়ে মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় খুচরা বিক্রেতাদের দিকেও নজর দিয়েছে প্রশাসন। ওয়ালমার্টসহ আটটি বড় খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ নিয়ে তদন্ত করছে বিচার বিভাগ।
তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে বলে স্বীকার করেছে গবাদিপশু শিল্পের সংগঠনগুলো। তাদের বক্তব্য, হঠাৎ করে কর্মী সংকট তৈরি হলে ব্যবসার বাইরে প্রাণী কল্যাণ, উৎপাদন কার্যক্রম ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
কানসাসে কর্মস্থলে অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার
এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, কানসাসে আইস কোনো কর্মস্থলকেন্দ্রিক অভিযান পরিচালনা করছে না।
ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, আইস হত্যাকারী, ধর্ষক, মাদক পাচারকারীসহ গুরুতর অপরাধী এবং চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ পাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
সংস্থাটি কানসাসে সাম্প্রতিক কয়েকটি গ্রেপ্তারের উদাহরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, যৌন নিপীড়ন, অস্ত্রসহ পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, ধর্ষণ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সাজা রয়েছে।
গরু জবাই কমেছে
গবাদিপশু শিল্পের এই সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের গরু ও গরুর মাংসের সরবরাহ ব্যবস্থা আগে থেকেই নানা চাপে রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৯০ হাজার গরু জবাই করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে কানসাসের ডজ সিটি ও লিবারালের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মীরা কাজে আসতে পারেননি। এতে গরু পরিবহনে বিলম্ব হয়েছে।
গবাদিপশু শিল্পের সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অভিবাসন আইন আইনসম্মত, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অভিযান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
সুত্র: নিউজউইক







