এয়ার টিকেটের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় আটাব

একটি ভিডিও কনফারেন্সের স্ক্রিনশট যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করছে, চ্যানেল আই অনলাইন এর প্রতিনিধিত্ব করছে. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
এয়ার টিকেটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম আসন সংকট এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। সংগঠনটির দাবি, টিকেট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের চিরতরে ট্রাভেল ট্রেড থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৭টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘আটাবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও এয়ার টিকেট সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা আয়োজন করে আটাব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ এবং সঞ্চালনা করেন মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ।
আটাব নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ট্র্যাভেল চক্র সিন্ডিকেট গঠন করে এয়ার টিকেটের দাম বাড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলছে। একই সঙ্গে এই চক্রটি বর্তমান বৈধভাবে নির্বাচিত আটাব কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চলেছে। এমনকি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমেও অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘টিকেট সিন্ডিকেট একটি অসাধু চক্র, যারা কালোবাজারি ও মজুতদারির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি পরিপত্র জারির পর সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হওয়ায় তারা বর্তমানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুনরায় মার্কেটে আধিপত্য বিস্তার করতে। এরই ধারাবাহিকতায় আটাবের বৈধ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে তারা।
মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন আটাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান খান রেজওয়ান, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান ইসি সদস্য এইচ.এম. মুজিবুল হক সাকু, সাবেক মহাসচিব জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু, উপ-সচিব রুশো চৌধুরী, তোয়াহা চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
সভায় আটাব সদস্যরা বলেন, সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং ট্র্যাভেল ট্রেডের স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আটাব কমিটি গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ট্র্যাভেল ট্রেডের স্বার্থ ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
উল্লেখ্য, আটাব বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একমাত্র বাণিজ্যিক সংগঠন, যা ১৯৭৬ সাল থেকে দেশে প্রায় ৪ হাজার বৈধ ট্রাভেল এজেন্টের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে আসছে। সংগঠনটি সরকারের সঙ্গে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।






