পেরুর আন্দিজ অঞ্চলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৩০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হুয়ানকায়ো প্রদেশের সিকায়া শহরের পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি স্থানীয় গির্জা ও একটি কনভেন্টও রয়েছে।
স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা লুইস ভাসকেজ বলেন, পার্বত্য এলাকাটিতে অধিকাংশ বাড়ি কাঁচা অ্যাডোবি ইট দিয়ে নির্মিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিপ্রধান এলাকা চোঙ্গো বাজোতে বহু মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেককে কম্বল জড়িয়ে রাত কাটাতে দেখা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে গবাদিপশুও আটকা পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন, তিন সন্তানের জননী হারমেনেগিলদা গুয়ামালাতো বলেন, আমার বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে এখন পাশের হুয়াইউকাচি জেলায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পেরুতে নিয়মিত ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০০৭ সালে দেশটির ইকা অঞ্চলের পিসকো প্রদেশে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৬০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।









