ভাষা ও জ্ঞানচর্চার নতুন ভাবনা নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ভাষাশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার নতুন ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ‘এপিস্টেমিক রিকনফিগারেশনস ইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ’ শীর্ষক এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে ভাষা, জ্ঞান উৎপাদন ও ভাষাশিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পেশাজীবীরা।
এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল)। এটি বিআইএলের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে মোট ১৪৫টি গবেষণা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে ২৫০ জনের বেশি শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। দুদিনব্যাপী এই আয়োজনে রয়েছে তিনটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা, দুজন আমন্ত্রিত বক্তার আলোচনা, ‘রাইজিং স্টারস’ পর্ব এবং তিনটি কলোকুইয়াম সেশন।
কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। তিনি বলেন, “ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা, নিজেদের ভাবনা ভাগ করে নেওয়া এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসবই আমাদের একে অপরের সাথে আরো বেশি সংযুক্ত থাকতে ও একটি সহযোগিতাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এ সময়ে অন্য একটি ভাষা জানা শুধু বাড়তি শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়। এটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করে। সাংস্কৃতিক বিনিময় ও গবেষণায় সহযোগিতার সুযোগ বাড়ায়। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গ্লোবাল নর্থের জ্ঞান ও একাডেমিক চর্চাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলোকেই জ্ঞানের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্লোবাল সাউথের ভাষা, ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব জ্ঞানচর্চা অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ডিকলোনিয়াল চিন্তাভাবনা আমাদের এই অসমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। প্রচলিত ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিতে এবং বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য জায়গা তৈরি করতে সাহায্য করে।”
স্বাগত বক্তব্যে বিআইএলের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ভাষাশিক্ষা হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রাসঙ্গিক ও পরিবর্তনমুখী। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে, ভাষাশিক্ষার সঙ্গে তার একটা গভীর সংযোগ থাকা খুব জরুরি।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বিআইএলের ডিরেক্টর ও এই কনফারেন্সের আহ্বায়ক প্রফেসর শায়লা সুলতানা বলেন, “আমরা ভাষা শেখা ও শেখানোর কাজ শুধু প্রচলিত শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রেও এই চর্চা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের জন্য যোগাযোগবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করছি। পাশাপাশি, নিরাপদ অভিবাসনে সহায়তার জন্য ভাষা ল্যাবের মতো ব্যবহারিক কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করছি।”
কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন স্পেনের ইউনিভার্সিটাট পম্পেউ ফাবরা এর প্রফেসর ড. ডেভিড ব্লক, দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব কেপটাউনের ড. আনা ডিউমার্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পিটার আই. ডি কস্তা।
দুদিনব্যাপী এই কনফারেন্সে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে থাকছেন চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইয়ংইয়ান ঝেং এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ড. আনোয়ার আহমেদ। ‘রাইজিং স্টারস’ পর্বে অংশ নিচ্ছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. নাসরিন পারভীন এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের সিনিয়র লেকচারার মোহাম্মদ মশিউর রহমান।





