রাজধানীতে থাকেন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যিনি মাসে অন্তত একদিন রেস্টুরেন্টে যান না! আর রেস্টুরেন্ট মানেই— মেনুতে থাকবে হট অ্যান্ড সাওয়ার স্যুপ, ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন! সপ্তাহে অন্তত একবার চাইনিজ খাবারের আয়োজন না করলে জীবন যেন অপূর্ণ থেকে যায়!
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো- যে মুখ দেশে চপস্টিক ঘুরিয়ে নুডলস খেতে অভ্যস্ত, সেই মুখই বিদেশে গিয়েই “বাংলা রেস্টুরেন্ট আছে নাকি?” বলে খোঁজ শুরু করে!
ঠিক তেমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। অবসরে সুযোগ পেলেই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরতে ভালোবাসেন তিনি। এবার সস্ত্রীক পৌঁছে গেছেন চীনের গুয়াংজু শহরে।
গুয়াংজুতে পা রাখার পর থেকে ১১ দিন ধরে চাইনিজ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তানজিন হালিম মনা। সঙ্গে আছেন আরেক বন্ধু দম্পতি। বাপ্পী ও তার স্ত্রী। একেক দিন একেক রকম চাইনিজ খাবার— নানা রঙ, নানা সাজ, নানা স্বাদ। তবুও কোথায় যেন এক শূন্যতা! যতই স্টিমড ডাম্পলিং বা কুং পাও চিকেন আসুক, বাঙালি মন পড়ে থাকে গরম ভাত আর মাছের ঝোলে!
চীনের যেসব স্থানে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রতিটিতেই চাইনিজ পদে ভরপুর টেবিল। কিন্তু ১১ দিনেও চোখে পড়েনি দেশি ভাত, ভাজা মাছ কিংবা ডাল-তরকারির দেখা!
১১ দিন পর অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন এলো! টেবিলে সাজানো ভাত, মাছ ভাজি, তরকারি আর গরুর মাংস! আফজাল হোসেন বললেন, “এতদিন পর এই খাবার দেখে মনে হলো যেন চীনে বসে বাংলাদেশকে খুঁজে পেলাম!”

চীনে বাংলা খাবার কীভাবে ব্যবস্থা করলেন, সেই বিষয়ে এই কিংবদন্তি বলেন,“আসলে ১১ দিন ধরে আমন্ত্রণ গ্রহণের মধ্যেই ছিলাম। চাইনিজরা তাদের মতো করে তাদের খাবার খাইয়েছে। এরমধ্যে সুযোগ ছিলো না বাঙালি পরিবার খুঁজে বের করা কিংবা বাংলা খাবারের সন্ধান করা।”
“এক কামড় ভাত মুখে দিয়ে মনে পড়ল দেশের দুপুরবেলা- খোলা জানালা দিয়ে ভেসে আসা রান্নাঘরের ধোঁয়া, গরম হাঁড়িতে ফুটতে থাকা ভাতের গন্ধ, পাশে তেলেভাজা মাছের সুবাস। চীনে বসেও সেই স্বাদ যেন মুহূর্তে ফিরিয়ে দিল আপন দেশের রান্নাঘরে।” ১১ দিন পর দেশি খাবারের অনুভূতি জানালেন এভাবেই।
আফজাল হোসেনের এই অভিজ্ঞতা আসলে হাজারো বাঙালির, যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণে যান। দেশে চাইনিজ বা অন্য দেশের খাবার প্রতি প্রেম থাকলেও, বিদেশে গিয়ে ভাত-মাছের টানে মন কেমন করে ওঠে প্রায় সব বাঙালিই। এজন্যই অনেকে বলেন- খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শেকড়, স্মৃতি আর আবেগের ঠিকানা!







