বিশ্ব প্রাণী দিবস: মানুষের সঙ্গে প্রাণীরও আছে নিরাপদ পৃথিবীর অধিকার

ছবি: সংগৃহীত।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মানুষের জীবনযুদ্ধের পাশাপাশি প্রতিদিনই টিকে থাকার লড়াই করে অসংখ্য প্রাণী। ডাস্টবিনের পাশে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো কুকুর, শহরের আকাশে তৃষ্ণার্ত পাখি কিংবা বন্দিদশায় থাকা বন্যপ্রাণী, সবারই রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও তাদের কল্যাণের বিষয়টি সামনে রেখে আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রাণী দিবস।
১৯২৫ সালে শুরু হওয়া এই দিবসের অন্যতম লক্ষ্য প্রাণীর কল্যাণ ও অধিকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। দিনটি উপলক্ষে প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা সানজিদা রহমান প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে বাসার আশপাশের কয়েকটি রাস্তার কুকুর ও বিড়ালকে খাবার দেন। তিনি বলেন, ‘এরা তো মুখ ফুটে বলতে পারে না। একটু ভালোবাসা আর খাবার দিলে এরা যে পরিমাণ কৃতজ্ঞতা দেখায়, তা অনেক মানুষের মধ্যেও পাওয়া যায় না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখনো অনেকে এদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়।’
শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, প্রাণীদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় তরুণদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসা এবং পরিত্যক্ত প্রাণীদের আশ্রয়ের জন্য কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাণী কল্যাণে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্ব প্রাণী দিবসের গুরুত্ব গৃহপালিত ও পথের প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রও চাপের মধ্যে রয়েছে। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় হাতি ও বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর ভূমিকা রয়েছে। মৌমাছির মতো পরাগায়নকারী প্রাণী থেকে শুরু করে বনের শীর্ষ শিকারি বাঘ, প্রত্যেকটি প্রজাতি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। কোনো প্রজাতির বিলুপ্তি বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন রয়েছে। আইনে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে প্রাণী কল্যাণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণ ও সচেতনতার পরিবর্তনও জরুরি।
বিশ্ব প্রাণী দিবসের বার্তা তাই শুধু প্রাণীকে ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা, নির্যাতন বন্ধ, অসুস্থ ও আহত প্রাণীর চিকিৎসা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বানও রয়েছে এ দিবসে।






