ডিবির হারুনসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তার এ অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় এবং ই-মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন অর রশীদের চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে। এর আগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেটিরও কোনো জবাব দেননি হারুন অর রশীদ।
তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চায় সরকার। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও পিএসসির মতামত পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
এদিকে হারুন অর রশীদের মতো কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বরখাস্তের কারণ হিসেবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং দেশের বাইরে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে না আসার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এটিকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।






