দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়ায় এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে বলে জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বলছে, মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে আমাদের মোট মোটরযানের ৭১ শতাংই মোটরসাইকেল। সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল চলছে।
শনিবার ২১ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এবং রোড সেফটি ওয়াচ ডট কম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায়।
এসময় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়নসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলছে, এই খাতে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা। নানা অজুহাতে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না।
দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির মধ্য দিয়ে পরিবহন খাতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, সমস্যাটি রাজনৈতিক। যখন যে দল ক্ষমতাসীন হয় তখন সেই দলের লোকজন সড়ক পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ আই মাহবুন উদ্দিন আহমেদ বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিত পদ্ধতিতে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জীবনমুখি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগই যথেষ্ট মাত্রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণ যেমন সচেতন হচ্ছে না, তেমনি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।
এ আই মাহবুন উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অনেকগুলো ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউলুপ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও রাজধানীর যানজট কমছে না বরং বাড়ছে। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মাত্রায় স্টাডি করা হয়নি। রাজধানীর যানজট কমানো এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য সরকার মেট্রোরেল নির্মাণ করে আংশিক চালু করেছে। ২টি সাবওয়ে নির্মাণ শুরু হচ্ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশগুলো হলো:
- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে
- চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে
- বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে
- পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
- মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এগুলোর জন্য সার্ভিস রোড তৈরি করতে হবে
- পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে
- গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে
- রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে
- টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করতে হবে
- সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে
সংবাদ সম্মেলনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, মো রাশেদ খান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. তৌফিকুজ্জামান, রিসার্চ অ্যান্ড ডিজিটাল ইন্টারভেনশন এক্সপার্ট আমিনুর রহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।










