ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে এ দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জুমার দিনে নামাজের পাশাপাশি কিছু বিশেষ আমল করার সুযোগ রয়েছে।
এসব আমল একজন মুসলমানের ঈমান ও ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
১. গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গোসল করা এবং পরিচ্ছন্ন থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ জুমায় আসতে চাইলে সে যেন গোসল করে।”
—সহিহ বুখারি: ৮৭৭; সহিহ মুসলিম: ৮৪৪
তাই জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা উত্তম।
২. সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া
জুমার দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুগন্ধি ব্যবহার করেও মসজিদে যাওয়া সুন্নত। হাদিসে জুমার দিনের গোসল, পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং নামাজে মনোযোগের কথা এসেছে।
—সহিহ বুখারি: ৮৮৩
তবে মসজিদে যাওয়ার সময় এমন কোনো সুগন্ধি বা উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়, যা অন্য মুসল্লিদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়।
৩. সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত
জুমার দিনের সঙ্গে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। বিশেষ করে জুমার দিন বা রাতে সূরা কাহফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে নূর লাভের কথা বর্ণিত হয়েছে।
তাই বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের মধ্যে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা যেতে পারে।
৪. বেশি বেশি দরুদ পাঠ
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল।
হাদিসে এসেছে, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। তাই সেদিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।”
—সুনান আবু দাউদ: ১০৪৭
তাই জুমার দিনে নিজের কাজের ফাঁকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের অভ্যাস করা যেতে পারে।
৫. দোয়া করা
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা রয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের একটি বিশেষ সময়ের কথা বলেছেন, যখন কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
—সহিহ বুখারি: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম: ৮৫২
এই বিশেষ সময়টি কখন এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। তাই জুমার পুরো দিনেই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম।
জুমার দিনটি হোক ইবাদতে সমৃদ্ধ
জুমার দিন শুধু জুমার নামাজ আদায়ের দিন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ এবং বেশি বেশি নেক আমল করার একটি বিশেষ সুযোগ। গোসল ও পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি ব্যবহার, সূরা কাহফ তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ এবং দোয়া এসব আমল দিনের সৌন্দর্য ও বরকত বাড়াতে পারে।










