বিনোদন

ভ্রমণের প্রতি অনুপ্রেরণা জাগাতে পারে যে ১০ সিনেমা

ভ্রমণের প্রতি অনুপ্রেরণা জাগাতে পারে যে ১০ সিনেমা

প্রতিদিনের একঘেয়ে কর্মজীবন, অফিসের চাপ আর ব্যস্ত রুটিনের বাইরে গিয়ে নতুন জায়গা আবিষ্কারের ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। পাহাড়, সমুদ্র, অচেনা শহর কিংবা নির্জন প্রান্তরের হাতছানি কখনো কখনো মানুষকে পরিচিত জীবন ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। আর সেই আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে কিছু সিনেমা। ভ্রমণ, আত্ম-অনুসন্ধান ও জীবনের নতুন অর্থ খোঁজার গল্প নিয়ে নির্মিত এমনই ১০টি সিনেমা দর্শকদের মনে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন জাগাতে পারে।

১. ওয়াইল্ড (২০১৪)

চেরিল স্ট্রেইডের স্মৃতিকথা অবলম্বনে নির্মিত ‘ওয়াইল্ড’ পরিচালনা করেছেন জ্যঁ-মার্ক ভালে। মায়ের মৃত্যু ও দাম্পত্যজীবনের ভাঙনের পর চেরিল নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ক্রেস্ট ট্রেইলে একাকী দীর্ঘ পদযাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। প্রায় ২ হাজার ৬৫০ মাইল দীর্ঘ এই পথের মধ্যে তিনি প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল অতিক্রম করেন। রিজ উইদারস্পুন অভিনীত ছবিটি প্রকৃতির কাছে ফিরে গিয়ে জীবনের কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা দেয়। রিজ উইদারস্পুন ও লরা ডার্ন দুজনই ছবিটির জন্য অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

২. দ্য সিক্রেট লাইফ অব ওয়াল্টার মিটি (২০১৩)

বেন স্টিলার পরিচালিত ও অভিনীত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ওয়াল্টার মিটি। ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনের আলোকচিত্র বিভাগে কাজ করা ওয়াল্টার বাস্তব জীবনে একঘেয়ে রুটিনে অভ্যস্ত হলেও কল্পনায় নানা রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশ নেন। একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির নেগেটিভ খুঁজতে তাকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রা করতে হয়। আইসল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য ও দীর্ঘ সড়কে স্কেটবোর্ড চালানোর দৃশ্য ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ। সিনেমাটি অচেনা পৃথিবীকে আবিষ্কার এবং পরিচিত গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আসার বার্তা দেয়।

৩. দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিজ (২০০৪)

ওয়াল্টার সালেস পরিচালিত ‘দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিজ’ তরুণ আর্নেস্তো গুয়েভারা—পরবর্তী সময়ে যিনি চে গুয়েভারা নামে পরিচিত হন—এবং তার বন্ধু আলবের্তো গ্রানাদোর দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের গল্প। ১৯৫২ সালে একটি পুরোনো নর্টন ৫০০ মোটরসাইকেলে তাদের যাত্রা শুরু হলেও মাঝপথে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর হেঁটে, ভেলা ও ট্রাকে করে তারা ভ্রমণ চালিয়ে যান। পথে দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বাস্তবতা তাদের চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে। গায়েল গার্সিয়া বার্নাল অভিনীত ছবিটি সেরা মৌলিক গানের জন্য অস্কার জেতে।

৪. ইট, প্রে, লাভ (২০১০)

রায়ান মারফি পরিচালিত এই ছবিতে জুলিয়া রবার্টস অভিনয় করেছেন লিজ গিলবার্টের চরিত্রে। দাম্পত্যজীবনের ভাঙনের পর নিজের জীবনের অর্থ খুঁজতে লিজ ইতালি, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বালি ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। ইতালিতে খাবার ও জীবন উপভোগ, ভারতে আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান এবং বালিতে ভালোবাসার নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। এলিজাবেথ গিলবার্টের একই নামের স্মৃতিকথা অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি বিশ্বব্যাপী ২০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।

৫. লস্ট ইন ট্রান্সলেশন (২০০৩)

সোফিয়া কপোলা পরিচালিত এই সিনেমায় টোকিওতে একাকিত্বে ভোগা দুই মার্কিন নাগরিকের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। হুইস্কির বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে জাপানে আসা অভিনেতা ববের সঙ্গে এক হোটেলে পরিচয় হয় তরুণী শার্লটের। অচেনা শহর, সংস্কৃতিগত পার্থক্য ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বিল মারে ও স্কারলেট জোহানসন অভিনীত ছবিটি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার জেতে। টোকিওর রাতের আলো ও শহুরে জীবনের বৈচিত্র্য সিনেমাটিকে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

৬. দ্য বিচ (২০০০)

ড্যানি বয়েল পরিচালিত এই ছবিতে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনয় করেছেন রিচার্ড চরিত্রে। ব্যাংককে ভ্রমণের সময় একটি গোপন দ্বীপের মানচিত্র পাওয়ার পর রিচার্ড সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বীপে পৌঁছে তিনি একটি নির্জন সমুদ্রসৈকত ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর সন্ধান পান। কিন্তু স্বর্গের মতো সুন্দর পরিবেশের আড়ালে ধীরে ধীরে নানা জটিলতা প্রকাশ পায়। অ্যালেক্স গারল্যান্ডের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটির শুটিং হয়েছিল থাইল্যান্ডের কো ফি ফি লেহ দ্বীপের মায়া বে-তে। সিনেমাটি ভ্রমণের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটনের কারণে প্রকৃতির ওপর পড়া প্রভাব নিয়েও ভাবায়।

৭. আন্ডার দ্য টাসকান সান (২০০৩)

দাম্পত্যজীবন ভেঙে যাওয়ার পর লেখক ফ্রান্সিস ইতালি ভ্রমণে গিয়ে একটি পুরোনো বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ডায়ান লেন অভিনীত ছবিটি পরিচালনা করেছেন অড্রে ওয়েলস। ফ্রান্সেস মেইসের স্মৃতিকথা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির শুটিং হয়েছে ইতালির টাসকানি অঞ্চলের করতোনা শহরে। বাড়ি সংস্কার, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। সিনেমাটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের কঠিন সময়েও নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ থাকে।

৮. দ্য ওয়ে (২০১০)

এমিলিও এস্তেভেজ পরিচালিত ‘দ্য ওয়ে’ ছবিতে মার্টিন শিন অভিনয় করেছেন টম নামের এক মার্কিন চিকিৎসকের চরিত্রে। ফ্রান্সে গিয়ে ছেলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি ছেলের অসমাপ্ত যাত্রা শেষ করতে স্পেনের বিখ্যাত তীর্থপথ কামিনো দে সান্তিয়াগোতে হাঁটা শুরু করেন। প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ এই পথের যাত্রায় তার সঙ্গে পরিচয় হয় বিভিন্ন মানুষের। সিনেমাটি শোক কাটিয়ে ওঠা, আত্ম-অনুসন্ধান এবং ভ্রমণের পথে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরে।

৯. ট্র্যাকস (২০১৩)

জন কারান পরিচালিত এই সিনেমা অস্ট্রেলিয়ার রবিন ডেভিডসনের বাস্তব ভ্রমণকাহিনি অবলম্বনে নির্মিত। ১৯৭৭ সালে চারটি উট ও একটি কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি পেরিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মাইল যাত্রা করেন। মিয়া ওয়াসিকোভস্কা অভিনীত ছবিতে উঠে এসেছে নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতির কঠোরতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। রবিনের স্মৃতিকথা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি দেখায়, দীর্ঘ ও কঠিন ভ্রমণ একজন মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে।

১০. ইনটু দ্য ওয়াইল্ড (২০০৭)

শন পেন পরিচালিত ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ জন ক্রাকাওয়ারের বই অবলম্বনে নির্মিত। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্রিস ম্যাকক্যান্ডলেস ১৯৯০ সালে কলেজের পড়াশোনা শেষ করে নিজের সঞ্চিত প্রায় ২৪ হাজার ডলার দাতব্য কাজে দিয়ে পরিচিত জীবন ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল পেরিয়ে তার শেষ গন্তব্য হয় আলাস্কার দুর্গম প্রান্তর। এমিল হার্শ অভিনীত ছবিটি স্বাধীনতা, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং জীবনের অর্থ খোঁজার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে। তবে বাস্তব জীবনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে ক্রিস ১৯৯২ সালে আলাস্কায় মারা যান। ফলে ছবিটি ভ্রমণের অনুপ্রেরণার পাশাপাশি দুর্গম অভিযানে প্রস্তুতি ও সতর্কতার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। দ্য স্টেটসম্যান

বিষয়:অনুপ্রেরণা ইন্টু দ্য ওয়াইল্ড চলচ্চিত্র ট্র্যাকস দ্য বিচ দ্য মোটর সাইকেল ডায়েরিস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…