ভারত থেকে পানির তোড়ে ভেসে আসা বুনো হাতিটিকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি। উৎসুক মানুষের ঢল আর বন্যার পানির কারণে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে হাতিটিকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। শুকনো এলাকায় না আসা পর্যন্ত হাতি উদ্ধার প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে উদ্ধারকারী দল।
গত ২৬ জুন হাতিটি ভারতে থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারি দিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে আসে বাংলাদেশে। হাতিটি আসাম রাজ্যের শিশুমারা পাহাড়ি এলাকা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মাসের বেশি সময় আগে ভেসে আসা হাতিটি দেশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ঘুরে এখন আছে জামালপুরে।
উৎসুক মানুষের ঢল এবং বন্যার পানির কারণে হাতিটিকে ধীরে ধীরে তাড়া করেও শুকনো জায়গায় নেয়া যাচ্ছে না। কাছাকাছি আসলেও উৎসুক মানুষের ভিড়ে আবারও সরে যাচ্ছে।
হাতি উদ্ধারে বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ উদ্ধারকারী দল আছে হাতির পিছু পিছু। হাতিটিতে তাড়া করে কোনো বড় মাঠে নিয়ে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে ট্রাকে তুলে নেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি থাকলেও কার্যকর করা যাচ্ছে না। কারণ একদিকে পানি অন্যদিকে মানুষের তাড়ায় হাতিটি রাস্তাঘাট, বিল, চরাঞ্চল পাড়ি দিয়ে পানিতে অবস্থান নিয়েছে। কয়েকশ’ মাইল পাড়ি দেওয়ার কারণে দুর্বলও হয়ে পড়েছে হাতিটি।
হাতি উদ্ধারে আরেকটি পোষা হাতি, ক্রেন, ট্রাকসহ সব প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। তবে বুনো হাতি বিগড়ে গেলে ঘরবাড়ি এবং মানুষের ক্ষতি করতে পারে এই আশংকায় উদ্ধারে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় উদ্ধারকারী দল।
বন অধিদপ্তরের কারিগরি ও মনিটরিং টিম হাতিটিকে নজরে রেখেছে। উৎসুক মানুষের ঢল ঠেকাতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছে হাতি উদ্ধারকারী যৌথ দল। মানুষের ঢল ঠেকানো গেলেই হাতিটিকে শুকনো জায়গায় নিয়ে উদ্ধার সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।







