পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ হোক আর বিরোধীদল হোক সকলের মানবাধিকার রক্ষা করা বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিচারপূর্ব আটক রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে দেখা যাচ্ছে, ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতাদের অনেকে আটক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে গঠন করা হয়নি। এরপরও তারা বিচার শুরুর আগেই আটক রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতাকর্মীরা।
সুতরাং আমরা কখনোই চাইব না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।
তিনি বলেন, আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, আইনমন্ত্রীও বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তার পর অনেক মামলা হয়েছে। যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
‘আবার অনেক মামলা অতি উৎসাহী হয়েও অনেকে করেছেন। সেসব মামলাও আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো সত্যতা না পাওয়া যায় বা কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে পর্যালোচনার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে।’
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সাথে অফিসিয়ালি আনঅফিসিয়ালি যোগাযোগ চলছে। তাছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট জোরালোভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়শিয়া ও তুরস্কের মুসলিম দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগের আশ্বাস দিয়েছে চীন।









