এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পানি ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান খান দীপু হত্যাকাণ্ড ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। পূর্ববিরোধের জেরে তাকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে স্বজনদের দাবি, আগের বিরোধ মিটে যাওয়ার পরও পরিকল্পিতভাবে দীপুকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় খিলগাঁও এলাকা থেকে দীপুকে একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে শাহজাহানপুর এলাকায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে না পারায় স্বজনরা তাকে বাসায় নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় দীপুকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শামসুদ্দিন খান বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় উজ্জ্বলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে খিলগাঁও, শাহজাহানপুর ও মুগদা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুলিশ।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, অভিযানের ভিত্তিতে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উজ্জ্বল আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, দীপুকে উদ্ধারের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় একটি চক্রের অবৈধ চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। খিলগাঁও সি-ব্লক এলাকায় দীপু জার পানি সরবরাহের ব্যবসা করতেন।
এর আগে পুলিশ পরিবারের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, গত ঈদে আসামিদের সঙ্গে দীপুর দ্বন্দ্ব হয়েছিল। তবে স্বজনদের দাবি, সেই বিরোধ পরবর্তীতে মিটমাট হয়ে যায়। এরপরও একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দীপুকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
নিহত দীপু খিলগাঁও সি-ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়ভাবে পানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যক্তিকে এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায়ও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
দীপুর বাবা শামসুদ্দিনের দাবি, তার ছেলের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, তাদের আইনের আওতায় আনা এবং হত্যার নেপথ্যের পুরো ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।









