স্বাধীনতা যুদ্ধের ১৫ খণ্ডের দলিলপত্র দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ ও বিতরণের বিরুদ্ধে আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর ফলে হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশিত ১৫ খণ্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহে বাধা কাটলো বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এই বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেয়।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাক্কানী পাবলিশার্সের স্বাধীনতার দলিলপত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে আপিল প্রত্যাহার করে নিতে মঙ্গলবার আবেদন করা হয়েছিল।আপিলের চেম্বার আদালত সে আবেদন গ্রহণ করেছেন।ফলে হাক্কানী পাবলিশার্স এখন এই দলিলপত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করতে পারবে।এতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
হাক্কানী পাবলিশার্সের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ বিষয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ৯ জুলাই লিখিতভাবে ১৫ খণ্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন।ওই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ছাপানোর জন্য হাক্কানী পাবলিশার্সকে চিঠি দেয়।এরপর হাক্কানী পাবলিশার্স স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের ১৭ হাজার কপি ছাপে। কিন্তু হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশিত এই দলিলপত্র সরবরাহে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব বাধা দেন।
এরপর ২০১১ সালে হাক্কানী পাবলিশার্স হাইকোর্টে রিট করে।২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল ওই রিটের রায় হাক্কানীর পক্ষে যায়।রায়ে হাইকোর্ট ওই দলিলপত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংগ্রহের নির্দেশ দেয়।
এরপর একই বছরের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে ওই দলিলপত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ ও বিতরণে পুনরায় আদেশ দেন।কিন্তু এ আদেশ বাস্তবায়ন না করে তথ্য মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।আপিল বিভাগ হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে।ফলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাক্কানী পাবলিশার্সের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সরবরাহ আটকে যায়।
সম্প্রতি সরকারের সিদ্ধান্তে গত ১২ জুন তথ্যমন্ত্রণালয় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে এক চিঠি দিয়ে আপিল প্রত্যাহার করে নিতে বলে।তারই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল প্রত্যাহার এবং আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নিতে আবেদন করে।









