‘রুদ্র, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, কী নির্বিকার ২৪ টা বছর পার করে দিলে!’ কবিবন্ধু রুদ্রর চলে যাওয়ার এদিন সব বন্ধুর পক্ষে রুদ্রকে স্মরণ করেছেন কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন: মাঝেমাঝে পাল্লা দিয়ে কবিতা লিখতে তুমি আর কামাল (কামাল চৌধুরী, সরকারের সচিব)। কামাল এখন কেমন লেখে তোমার জানার দরকার নেই।
‘রীয়াজ (গণযোগাযোগের অধ্যাপক আলী রিয়াজ) বিদেশে থিতু হলো বলে, যতই নাম করুক, ওকে একহাত নেওয়ার কথা ভাবলেই না। সলিমুল্লাহ (ড. সলিমুল্লাহ খান) কোন পথে গেল, তা জানার যেন কোনো দরকার নেই তোমার,’ লিখেছেন সাবের।
সোনালি প্রজন্মের ওই বন্ধুদের কথা একের পর এক বলতে গিয়ে সাবের লিখেছেন, ‘জাফর (কবি, সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ) পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় চুকিয়ে ফেলেছে, তাতে তোমার কী! আলমগীর রেজা চৌধুরী (সাহিত্যিক) তোমার কথা বলতে বলতে চোখ মোছে, মুছুক। রেজা সেলিম (গ্রামীণ জনপদে আইসিটি বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা) প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল বানায়, বানাক।
যে বন্ধুরা শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে নেই, কিন্তু নিজ জায়গায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তাদের কথাও বলেছেন মঈনুল আহসান সাবের। লিখেছেন: বদরুল হুদা বাড়ি ভেঙ্গে রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী হয়ে গেছে, তবে তোমার দোতলার ঘরটা নিশ্চয় তার স্মৃতিতে প্রবল, তোমার মাথাব্যথা নেই।
রুদ্রর অন্য বিখ্যাত বন্ধুদের কথাও এসেছে মঈনুল আহসান সাবেরের পোস্টে। তিনি লিখেছেন: সুব্রত (সুব্রত শংকর ধর, গণযোগাযোগের অধ্যাপক থেকে বিশ্বব্যাংকের বড় কর্মকর্তা) আজ এই দেশ তো কাল ওই, বড় বড় প্রজেক্টের দায়িত্ব পালন করে, তোমার কী?
‘মইনুস সুলতান তার হরেক নেশার তীব্র অলস জগৎ ছেড়ে আবার লেখালেখিতে মাতোয়ারা, তুমি শুনতেও চাও না। বড় ব্যাংকার ফারুক (ফারুক মঈনউদ্দিন) গল্প কবিতা লেখা প্রায় ছেড়ে ক্লিনটন বি সিলির জীবনানন্দ অনুবাদ করে কত বড় পুরস্কার পেয়ে গেল., যাক!’ বলতে বলতে এগিয়ে গেছেন সাবের।
তাকে নিয়ে রুদ্রর কথা মনে করে তিনি লিখেছেন: আড্ডায় কখনো কখনো বলতে, সাবের, তোমার চোখ দেখে মনে হয় মানুষ খুন করতে পারবে। দুএকটা পারলাম কি না, জানার প্রয়োজন বোধ করো না।
‘কে তোমার কবিতা পড়ল কে গাইল গান, কোন মেয়ে তোমাকে দেখেনি বলে বিষণ্ন হলো, তোমার প্রেমিকারা কার সংসারে গেল, তোমার কিছুই এসে যায় না। প্রিয় রুদ্র, কলেজ ভার্সিটি কিংবা তার পরের জীবনে তুমি কখনো এমন নির্বিকার ছিলে না,’ লেখার সময় নিশ্চয়ই কয়েক ফোঁটা জল পড়েছে সাবেরের চোখ থেকে।
যেমন আজ রুদ্রর মৃত্যুবার্ষিকীতে আরো একবার ক্রন্দনসিক্ত তার সোনালি প্রজন্মের সব বন্ধু। তারা সবাই আছেন, বিখ্যাত হয়েই আছেন। তাদের অনেকের চেয়েই অনেক বিখ্যাত হয়ে আছেন রুদ্র। তবু জাগতিক এই জীবনে নেই রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।







