দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় করেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে নাটক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বহু পরিচিত মুখ এদিন উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে।
সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী নাট্যজন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
বিকেল ৩টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় তাঁর মরদেহ। সেখানে উপস্থিত হয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও সহকর্মীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “সে আমার অগ্রজ, আমাদের সম্পর্ক ছিল তুই-তুকারির। ৫৫ বছরের বেশি সম্পর্ক। মুক্তিযুদ্ধেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “শুরুর দিকে আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এক ছিল না। কেউ বাম রাজনীতি করত, কেউ ডান রাজনীতি করত। কিন্তু মঞ্চে আমরা সবাই এক ছিলাম। রামেন্দু মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সেলিম আল দীন, আতাউর রহমান ও আমি- সবাই মিলে বাংলাদেশের থিয়েটারকে সমৃদ্ধ করেছি।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নাসির উদ্দীন ইউসুফ আরও বলেন, “আতাউর রহমানের শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আমি মনে করি তাঁর আত্মার মৃত্যু হবে না।”
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন তিনি। শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।








