পঁচিশে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জয়ন্তী। অমর সব সৃষ্টি নিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্ব অঙ্গণে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে বাঙালি জাতিকে গর্বিত করে গেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বহুমাত্রিক গুণে সমৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ বাঙালির সাহিত্যের জগতে আজও আলো হয়ে আছেন। সারাদেশে নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হবে। চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে হবে ‘এবি ব্যাংক-চ্যানেল আই’ রবীন্দ্র মেলা।
৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প এবং প্রায় দু’হাজার গান রচনা করে বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারকে যিনি সমৃদ্ধ করেছেন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ রবীন্দ্রনাথের জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে।
জন্ম থেকে বাড়ির সংস্কৃতির বলয়ে বেড়ে ওঠা মা-বাবার চতুর্দশ সন্তান রবীন্দ্রনাথ। স্কুলে পা না দিতেই মাত্র আট বছর বয়সে লিখেছেন প্রথম কবিতা। ১৩ বছর বয়সে ‘অভিলাষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয় ভানুসিংহ ছদ্মনামে। রবীন্দ্রনাথ শিল্পের যেখনে ছুঁয়েছেন যাদুর কাঠি সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিস্ময়কর শিল্পপ্রাণ।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে প্রেম প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি বাঙালির বাধকে জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনিই। পৃথিবীতে রবীন্দ্রনাথই একমাত্র কবি যার গান একাধিক স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীতে। গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন রবীন্দ্রনাথ।
সাহিত্যের সব শাখায় সোনা ফলিয়ে রবীন্দ্রনাথ চিত্রকর্মে হাত দেন জীবনের সত্তর বসন্ত পেরিয়ে। প্রায় আড়াই হাজার ছবি এঁকে নিজের প্রতিভার ষোল আলাই পূর্ণ করেন তিনি। জীবনের শেষ চার বছরের বেশির ভাগ সময় অসুস্থ অবস্থায় পার করেন তিনি। 
মৃত্যুচিন্তা থেকে এ সময় লেখা কবিতাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ দেহত্যাগ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমৃত্যু মানবতা আর জীবনের জয়গান গাওয়া এ মহাপুরুষ বাঙালি সংস্কৃতিতে ও চেতনায় বেঁচে আছেন, থাকবেন।








