জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জাবি প্রেসক্লাব।
একই সাথে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেয়ায় সেখানে কর্মরত চ্যানেল আই ও চ্যানেল আই অনলাইন প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগ কতিপয় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।
এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি চেয়ে গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি দিপঙ্কর দাস ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানান।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদেরকে হুমকি, মারধরসহ নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটে চলছে। এটি স্বাধীন গণমাধ্যম ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী। অপরাধীরা একটি ছাত্র সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে পার পেয়ে যাওয়ায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাই জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিত জানানো হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে দুই বহিরাগত ছিনতাইয়ের শিকার হন। বহিরাগত মো. বিল্লাল হোসেনকে কয়েকজন সন্ত্রাসী বেধড়ক মারধর করলে সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এর প্রতিবাদ করেন। তাদেরকে মারধরে বাধা দিয়ে ওই বহিরাগতকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার হতে তুলে দিতে বলেন।
এসময় নেজামউদ্দিন নিলয় (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ৪২ ব্যাচ), রাফিউল সিকদার আপন (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), সোহেল রানা (লোক প্রশাসন বিভাগ, ৪৭ ব্যাচ), শুভাশিষ শুভ (বাংলা ৪৫ ব্যাচ) সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী সোহাগের ওপর হামলা করে। সন্ত্রসীরা বেধড়ক কিল-ঘুষি দিয়ে আহত মাহমুদুল হক সোহাগ পাশের ঝোপে ফেলে দেয়। এসময় মাহমুদুল হককে রক্ষা করতে তার বিভাগের এক ছাত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও উপাচার্য বরাবর তারা লিখিত অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তদন্তসহ দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সাথে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় না আনা হলে সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।








