বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিধি বেড়েছে গত বিশ বছরে অনেক বেশি। দেশের সব কয়টি ক্রান্তি লগ্নে গণমাধ্যম পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কম কথা হচ্ছে না। সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তাদের অনেকগুলো সংগঠন আছে দাবি আদায়ের। কিন্তু গত বিশ কোনো বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। সব মিডিয়া এখনও সরকার ঘোষিত ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করেনি। অনেক সাংবাদিক মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবু তাদের কর্মযজ্ঞ বন্ধ হয় না কখনও।
তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে শোরগোল না থাকলেও প্রায় সব কয়টি জাতীয় ঘটনায় সাংবাদিকদের মার খেতে হয়। কখনো ক্ষমতাসীনদের হাতে, কখনো বিরোধীদের হাতে, কখনো সন্ত্রাসীদের হাতে। ১৯৯২ সাল থেকে দেশে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার কাজ তেমনভাবে সমাপ্ত হয়নি। সবকিছুই থেমে আছে অদৃশ্য কোনো ইশারায়। মরার উপর খাড়ার ঘা এখন যে কোনো ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের পেটানো যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো ইস্যু জনগণকে জানানোর কর্তব্যবোধ থেকে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে যেতে হয়। এসময় সাংবাদিকরা যথেষ্ট নিরাপত্তা পায় না। সাংবাদিকদের মারা যেন যেকোনো আন্দোলনের একটা যুতসই কর্মসূচি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের বেধড়ক পেটানো হয়। কিছু হেলমেটধারী সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের উপর নগ্ন হামলা চালায়। এতে কয়েকজন সাংবাদিকরা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনকে তেমন কোনো জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখিনি। বিষয়টা খুবই হতাশাজনক। তারপরেও বেশ কিছু সংগঠন, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা জায়গায় সাধারণ মানুষও সাংবাদিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইতোমধ্যে জোরালো জনমত তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছা থাকলে হামলাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইতোমধ্যে বলেছেন: সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হামলাকারী যারাই হোক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ কথায় আশ্বস্ত হতে চাই। আশা করি, সরকার খুব শিগগিরই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
একইসঙ্গে সংকটকালীন মূহুর্তে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচেনায় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করার কৌশল, নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে বলে আমরা মনে করি।







