৫০ দিনব্যাপী ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই সময়ে বিশ্বের বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ কমে গেছে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়বে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি এখন খোলা রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির একটি চুক্তি শিগগিরই হতে পারে, যদিও সময়সীমা অনিশ্চিত।
বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর পর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। মার্চ মাসে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান থেকে জেট ফুয়েল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে রপ্তানি কমে মার্চ–এপ্রিল সময়ে মাত্র ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে।
কেপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল বলেন, গড় তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকায় এই ঘাটতির আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এটি কোনো কোনো দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ তেল ঘাটতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ সপ্তাহের বৈশ্বিক বিমান চাহিদা পূরণ করা যেত, অথবা ১১ দিন সড়ক পরিবহন পুরোপুরি চালানো সম্ভব হতো। এছাড়া এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রায় ছয় বছরের জ্বালানি ব্যবহারের সমান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের তেল চাহিদা এবং বৈশ্বিক শিপিং শিল্পের প্রায় চার মাসের জ্বালানি প্রয়োজন এই ঘাটতির মাধ্যমে পূরণ করা যেত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। বর্তমানে বৈশ্বিক অনশোর ক্রুড মজুদ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে। কিছু তেলক্ষেত্র সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে।
এছাড়া কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সসহ কিছু অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







