সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় ‘আমরা সংবাদকর্মী’ এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর দুর্বৃত্তদের হামলার নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর পারভেজ খান, দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ, বাংলাভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এস এম ফয়েজ, মাছরাঙা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার জাহেদ সেলিম, প্রথম আলোর ফটোগ্রাফার সাজিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন পারভেজ খান ও বায়েজিদ আহমেদ।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পারভেজ খান বলেন, আমরা সব সময়ই চাই সাংবাদিকদের উপর হামলার সুনির্দিষ্ট একটা বিচার হোক। আজ পর্যন্ত এ ধরণের ঘটনার কোনো বিচার আমরা পাইনি। এসব ঘটনা অনেক সময় আপোস বা দুঃখ প্রকাশ এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বিচার না হওয়ার কারণে আজ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
তিনি বলেন, যারা হামলাকারী, তারা পুলিশ নাকি কোনো দলীয় সংগঠনের কর্মী সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমি মনে করি যারা আমাদের উপর হামলা করেছে, আমাদের পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছে, তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদেরকে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী হিসেবে দেখা হোক।
হামলাকারীদের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের স্বদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারকে খুব দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু গ্রেপ্তারের নামে কাউকে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়েও সরকারকে সচেতন থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না হবে কিংবা কোনও দলীয় ছত্রছায়ায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই সুবিচার পাব বলে আশা করতে পারি না।
বায়েজিদ আহমেদ বলেন, সরকারের ভাষায়, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সময় যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, উস্কানি দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা যেভাবে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়েছে সন্ত্রাসী এবং দুর্বৃত্তদের দ্বারা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আবেদন করছি সেই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হোক। কারণ হামলার সপ্তাহখানেক পার হয়ে গেলেও এখনও তাদের চিহ্নিত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার সবাই জানে এই সন্ত্রাসীরা কারা। এরা চিহ্নিত। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যদি স্বদিচ্ছা থাকে, তাহলে খুব সহজেই তারা এদের চিহ্নিত করে ধরতে পারবেন। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে, গণমাধ্যমকর্মীদের উপর কারা হামলা করেছে তা খুঁজে বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে’ পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় রাজধানীর কয়েকটি স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। গত রোববার রাজধানীর জিগাতলায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ফটোসাংবাদিক এ এম আহাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
একই সঙ্গে বেসরকারি টেলিভিশন নাগরিক টিভির একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া উত্তরা, বনানী, সায়েন্সল্যাব, ল্যাবএইড মোড়, শাহবাগ ও রামপুরা এলাকায়ও পেশাগত দায়িত্বে বাঁধা এবং হামলার ঘটনা ঘটে সংবাদকর্মীদের ওপর।









