সকালের উইকেট আর দুপুরের উইকেটে বিস্তর পার্থক্য। সেই পার্থক্যের কথা শোনানোর আগে সকালের আফসোসের গল্প বলা যাক।
কুশল মেন্ডিস ‘ব্যাকলিফট’ থেকে ব্যাট নামাতে একটু দেরি করে ফেলেছিলেন। অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে এরপর যখন ব্যাট দিতে যান, বল তখন কানা নিয়ে লিটনের হাতে। ঠিক আগের বলে ফিরেছিলেন উপুল থারাঙ্গা (৪)। জোড়া উইকেটের এই উল্লাস স্থায়ীভাবে উদযাপন করার আগে মুশফিকরা রিপ্লেতে দেখতে পান শুভাশিসের পা অনেকটা বেরিয়ে গেছে। ‘নো’!
মেন্ডিস ওই যে সতর্ক হলেন আর সুযোগ দিলেন না। ১৬৫ বল খেলে শতরান তুলে নেন। যার শূন্য রানে আউট হওয়ার কথা ছিল, সেই তিনি দিন শেষ করেছেন ১৬৬ রানে অপরাজিত থেকে! সঙ্গে নিরোসান ডিকেওয়াল্লা আছেন ১৪ রানে। চার উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩২১।
সকালের উইকেট দুপুরের পরে কেমন যেন বদলে যায়। যে শুভাশিস এক্সট্রা বাউন্সে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করছিলেন, সেই তিনিও বিবর্ণ হয়ে যান। সাকিব তো একাই করেছেন ২৪ ওভার! ৭১ রান দিয়ে উইকেট পাননি। আর মোস্তাফিজ যখন ১৫ ওভার শেষ করেন, তখন দুপুরের সূর্য মধ্যাকাশে। বাধ্য হয়ে সৌম্যকে দিয়ে তিন ওভার করান মুশফিক। কিন্তু সেই উইকেটের দেখা যখন পেলেন, তখন তিনশ’র কাছাকাছি লঙ্কানরা।
তাসকিনের ‘ব্যাক অফ লেন্থ’ ডেলিভারি মিড উইকেটে ঘোরাতে যেয়ে প্লেড হন দিমুথ গুনারত্নে (৮৫)। মেন্ডিসের সঙ্গে তার জুটিটি ১৯৬ রানের।
বাংলাদেশ যেখানে তিন পেসার নিয়ে খেলছে, শ্রীলঙ্কার সেখানে তিন স্পিনার। সকালের উইকেটে পেসারদের গতি দেখে মনে হয়েছিল বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ভুল নয়। কিন্তু বিকেল আসতে আসতে সাকিব একা যখন ২৪ ওভার করে ফেললেন তখন ‘তিন পেসার থিউরি’ কেমন যেন বেখাপ্পা মনে হয়।
মেহেদী হাসান মিরাজ বল করতে আসেন ইনিংসের ১৯তম ওভারে। নিজের তৃতীয় ওভারে করুনারত্নেকে (৩০) ফেরান। এরপর তিনিও আর প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অধিনায়ক তাকে ১২ ওভার ব্যবহার করেছেন। এক উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৬৬ রান।
গোটা দিন উইকেটের পেছনে সাবলীলভাবে ঝাঁপিয়ে গেছেন লিটন কুমার দাস। তাসকিন, শুভাশিস, মোস্তাফিজের গোটা বাউন্সারগুলো যেভাবে ডাউভ দিয়ে ধরেছেন, তাতে প্রশংসা করতেই হয়।
শেষ বিকেলে গুনারত্নে ফিরে যাওয়ার পর ডিকেওয়াল্লা লেটকাট করতে যেয়ে বল প্যাডে লাগান। প্রথম দৃষ্টিতে ফিল্ডারারা ভেবে বসেন ব্যাট ছুঁয়েছে বল। তাসকিন আবেদনে ফেটেও পড়েন। লিটন বল ধরে গলা মেলান। কিছুক্ষণ পর শরীর ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গিতে বল মাটিতে ফেলেন। মুখভঙ্গিতে ভাসছিল আফসোসের ছবি। ক্লান্ত শরীরে না পাওয়ার ছাপ!








