আজ শুভ বড়দিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
খ্রিস্টান ধর্মমতে, মানব মুক্তির পথ দেখাতেই প্রায় দুই হাজার বছর আগে কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে জন্ম নেয় এক ঈশ্বরপুত্র যীশু। বেথেলহেমের গোয়ালঘরে জন্ম নেওয়া সেই সন্তানই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন আলোর পথের দিশারী। যীশু জন্মের সে শুভক্ষণটি উদযাপন করতে তেঁজগায়ের ক্যাথলিক চার্চে রাত ১১টায় শুরু হয় নানা অনুষ্ঠানিকতার।গীর্জায় গীর্জায় অনুষ্ঠিত হয় খ্রিস্ট ধর্মের প্রার্থনা সংগীত।দিনের শুরুতে ঘন্টা ধ্বনি আর আত্মনিবেদনের প্রার্থনা সংগীতে এক হয় সব বয়সী খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা। মেরি ক্রিসমাস বলে একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য প্রকাশ করেন তারা।
কাকরাইল চার্চের ফাদার ড. তপন ডি রোজারিও বলেন, নানা ধরনের সন্ত্রাসী কাজকর্মের পর ধর্মকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা সবাই যদি একত্রিত হতে পারি তাহলে ওরা পালিয়ে যাবে।
চারশ ৪০ সাল থেকে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কাছে দিনটি ক্রিসমাস নামে পরিচিত। রাজধানীর গীর্জাগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। গোয়াল ঘরের রেপ্লিকাসহ গীর্জা চত্বরে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। পূর্ব পুরুষদের স্মরণে মোমবাতিও জ্বালিয়েছেন অনেকে। বড়দিনে দেশ, বিশ্ব ও মানুষের শান্তি কামনা করেছেন খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারকরা। বড়দিন উপলক্ষে ৫ তারকা হোটেলগুলোতে ছিল বর্ণিল আয়োজন। বানানো হয়েছে যিশুর জন্মস্থান গো-শালাও। বসানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। সান্তাক্লজের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য ছিলো নানা উপহার।
পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল যীশু খ্রিস্ট্রের অন্যতম ব্রত। বিপন্ন মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আজীবন চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। মহামতি যীশু সে ত্যাগ অনুসরণ করে শুদ্ধ মানুষ হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় বড়দিনের প্রথম প্রহরে।
সৌহার্দের নমুনা স্থাপন করতে এবং দেশ দশের মঙ্গল কামনায় যীশুর আশীর্বাদ কামনা করেন প্রার্থনায় অংশ নেয় সকলে। পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে সব ধর্মের আর শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে অসাম্প্রদায়িক এক উৎসবের রূপ নেয় বড়দিন।
দিনটি উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।






