দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। এ দিন ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলে আবারও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ৫ জানুয়ারির(২০১৪) এ নির্বাচনকে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ দিনটিতে সংবিধান সুরক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এ দিনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কায় জনমতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত বছরের মতো এবারও দু’দল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর ১৮টি স্থানে সমাবেশ আহবান করে।
শেষ পর্যন্ত ডিএমপির হস্তক্ষেপে দুই দলের কর্মসূচি ভেস্তে যায়। ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয় একই স্থানে এক সঙ্গে দুই দলের সমাবেশ করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে তার ঠিক আগের দিন ৪ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দলকেই নিজ নিজ কার্যালয়ে সমাবেশ করার কথা জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন মেয়র সাইদ খোকন।
এ জন্য নাগরিকদের উক্ত এলাকা এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।
এরপরই ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলের সমাবেশের কথা জানিয়ে বলা হয়। ৮ শর্তে দু’দলই নিজ নিজ কার্যালয়ে সমাবেশ করতে পারবে কিন্তু সেটা কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
এর আগে, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
৩ জানুয়ারি দু’দলই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইলে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞায় তা পণ্ড হয়।
বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।
তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, এ জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া।
এরপর বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী ‘নাটকীয়ভাবে’ আটকসহ নানা খবর প্রকাশিত হয়।
৫ জানুয়ারির সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং খালেদা জিয়ার লাগাতার অবরোধ ঘোষণা মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে ওঠে।







