ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উপকূল এলাকা অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টার পরপরই ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করে।
ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, সীতাকুন্ড, ভোলা, নোয়াখালী, এবং পটুয়াখালীতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙ্গে উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভোলায় ইলিশার মেঘনায় বালুবাহী দু’টি কার্গো জাহাজ ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন ৪জন। এছাড়াও সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে মা-মেয়ে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ।
তীব্র ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল জোয়ারে পটুয়াখালীতে বেড়ি বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকা।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল এবং দ্বীপগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়।
ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবেলায় আগে থেকেই নেওয়া হয় জোড় প্রস্তুতি। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়, মোতায়েন করা হয় ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয় উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ বাসিন্দাকে।

রোয়ানুর প্রভাবে উপকূলের জেলাগুলোতে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। বরিশালে ১৫৬, খেজুপাড়ায় ১৮০ এবং ভোলায় ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি দেখা দেয় রাজধানী ঢাকাতেও। রোয়ানুর প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা গেছে।










