এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের শিমরাইল গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় অফিসের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বাসিন্দা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের দাবিতে পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের উত্তেজনা তৈরি হলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব মিয়া, নূরুল হক, আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ আগস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে কয়েক শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও এক সপ্তাহেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পিডিবি কার্যালয়ে যান।
তারা আরও জানান, প্রায় এক মাস আগেও গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার বসানো হয়। কিছুদিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা এবং প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।
হামলায় আহত পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা শুরু করেন। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি সব জায়গায় দেওয়া হয়।’
রেজাউল করিম আরও বলেন, এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে হামলা চালান।
ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তবে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে একটি ট্রান্সফরমার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।










