শুরুতে পঞ্চাশ রানের উদ্বোধনী জুটি, পরে দেড়শর আগেই চার উইকেট নেই। দিনটা ভারতের হতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল তখন। শেষ পর্যন্ত কোহলিদের আশা ভেস্তে দিয়েছেন স্মিথ-ম্যাক্সওয়েল। এক গাদা কীর্তি গড়ার দিনে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত আছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত ফিফটি তুলে।
রাঁচিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ডেভিড ওয়ার্নারকে (১৯) নিয়ে ওপেনিংয়ে ফিফটির জুটি এনে দেন ম্যাট রেনশ (৪৪)। পরে শন মার্শ (২) ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব (১৯) দ্রুত ফিরে গেলে বিপদের আভাসই মিলেছিল।
সেখান থেকেই স্মিথের পথ চলা প্রায় আটাশ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে। দুজনে ১৫৯ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন আছেন। যেটি ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সেরা পঞ্চম উইকেট জুটি। ৫ চার ও ২ ছয়ে ১৪৭ বলে ৮২ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
স্টিভেন স্মিথের ইনিংসটি ১১৭ রানের। ১৩ চারে ২৪৪ বলে সাজানো। অজি অধিনায়কের ক্যারিয়ারের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি। যেটি তাকে বসিয়েছে ক্লাইভ লয়েড ও অ্যালিস্টার কুকের পাশে।
স্মিথের আগে মাত্র দুজন সফরকারী অধিনায়ক ভারতের মাটিতে একই সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লয়েড দুবার এই কীর্তি গড়েছেন, প্রথমে ১৯৭৪-৭৫ ও পরে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে, আর ইংল্যান্ডের কুক ২০১২-১৩ মৌসুমের সফরে। স্মিথ পুনে টেস্টে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে এই রেকর্ডে নাম লেখানোর পথে এগিয়েছিলেন।
ইনিংসটি খেলার পথে টেস্টে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন স্মিথ। যে পথে ৯৭টি ইনিংস খেলতে হলো তাকে। টেস্ট ইতিহাসে ইনিংসের হিসেবে সপ্তম দ্রুততম পাঁচ হাজারি ক্লাবে ঢুকে পড়ার রেকর্ড এটি। আর ম্যাচের হিসেবে তৃতীয় দ্রুততম। স্মিথের লাগল ৫৩ টেস্ট।
স্মিথের ইনিংসটি মাইলফলকের টেস্টে অজিদের মাথা উঁচিয়ে মাঠ ছাড়ার কীর্তিত্বও পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া যে এদিন নিজেদের ইতিহাসের ৮০০তম টেস্ট খেলতে নেমেছে। কেবল ইংল্যান্ডই ৯৮৩ টেস্ট খেলে তাদের ওপরে আছে। যদিও জয়ের দিক থেকে ইংলিশদের চেয়ে ২৬টি সাদা পোশাকের ম্যাচ বেশি জিতেছে অজিরা।
শুরুর সম্ভাবনার পর শেষের হতাশার দিনে ভারতের হয়ে উমেশ যাদব দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। একটি করে অশ্বিন ও জাদেজার।










