এমন অ্যানিমেশন, যা প্রথম দেখাতে দর্শকের মনে হতে পারে এটি কোনো অপরিণত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও! কিন্তু সেই অদ্ভুত চেহারা, খসখসে অ্যানিমেশন আর অসম্ভব সব দৃশ্যই এখন পরিণত হয়েছে সাফল্যের মূল কারণে!
চীনের স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘নিউ লাই’, ইংরেজিতে যার অর্থ ‘দ্য বুল ইজ কামিং’, মুক্তির পর হঠাৎই ইন্টারনেটের নতুন মিম-সেনসেশনে পরিণত হয়েছে সিনেমাটি।
সিনেমাটির গল্পে দেখা যায় দুটি অদ্ভুতদর্শন গরুর মতো চরিত্রকে। কখনো তারা নিজেদের মধ্যে তর্ক করছে, কখনো একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, আবার কখনো এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে যে দৃশ্যগুলো দেখে দর্শকের হাসি থামানো কঠিন।
অ্যানিমেশনের মানও প্রচলিত বড় বাজেটের ছবির তুলনায় অনেকটাই সাদামাটা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যগুলোর ছোট ছোট ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় ব্যঙ্গ, মিম আর রসিকতার বন্যা।
মজার বিষয় হলো, সিনেমাটিকে ঘিরে ঠাট্টাই শেষ পর্যন্ত তৈরি করেছে নতুন ধরনের প্রচারণা। অনেকেই ছবিটির অপরিণত ভিজ্যুয়াল ও অদ্ভুত চরিত্রগুলোকে নিয়ে মিম বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমার ‘প্রিমিয়াম’ অভিজ্ঞতাকে ব্যঙ্গ করে ‘নিউ লাই’-এর প্রদর্শনীকে ‘যেমনটা নোলান চেয়েছিলেন’ ধরনের রসিকতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
আরেকটি ভাইরাল মিমে আলোচিত ‘উইম্যান ইয়েলিং অ্যাট আ ক্যাট’ মিমের আদলে নারীর জায়গায় নোলান এবং বিড়ালের জায়গায় ‘নিউ লাই’-এর গরুকে বসানো হয়েছে। আবার কোথাও ল্যাম্বরগিনির বিখ্যাত ষাঁড়ের লোগোকেও বদলে দিয়ে তার জায়গায় বসানো হয়েছে ছবির হাস্যকর হলুদ গরুর চরিত্র।
মিমের দৌড় এখানেই থামেনি। একটি ছবিতে দেখা গেছে, সিনেমা চলার সময়ই এক দর্শক তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। পোস্টটির ক্যাপশনে রসিকতা করে বলা হয়েছে, ‘সময় এত দ্রুত বদলাচ্ছে যে মানুষ এখন ‘নিউ লাই’ দেখতে দেখতেই বিয়ে করছে।’
আরেকটি মিমে ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’-এর জনপ্রিয় পোস্টারের অনুকরণে সাজানো হয়েছে সিনেমাটির গরু চরিত্রকে। স্যুট, সানগ্লাস ও ঝলমলে আবহে তাকে দাঁড় করিয়ে নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য বুল অব ক্রিপ্টো স্ট্রিট’।
মুক্তির আগে অবশ্য ‘নিউ লাই’ নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণাই ছিল না। স্বল্প বাজেটের এই চীনা অ্যানিমেশন প্রায় নীরবেই প্রেক্ষাগৃহে এসেছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। দর্শকের বাড়তি আগ্রহের কারণে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শনী বাড়ানো হয়েছে।
ফলে ‘নিউ লাই’ এখন এমন এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রচলিত অর্থে ‘ভালো’ অ্যানিমেশন নয়, বরং অদ্ভুত ও অসম্পূর্ণ বলেই দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যে সিনেমার হয়তো বড় কোনো প্রচারণা ছিল না, সেই ছবিই এখন মিম, রসিকতা আর ইন্টারনেট সংস্কৃতির জোরে বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া








