অধিনায়কত্বের অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি জো রুটের। দলও দ্বিতীয়দিনে শেষ পাঁচ উইকেটে বেশিদূর এগোতে পারেনি। তবে বোলাররা শুরু থেকেই সাউথ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের ওপর চেপে বসায় দিনশেষে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে ইংল্যান্ডই। তৃতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রানে এগিয়ে থেকে নামবে ইংলিশরা। আর প্রোটিয়াদের লড়তে হবে হাতে থাকা শেষ ৫ উইকেট নিয়ে।
লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৫৮ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। শুক্রবার ৫ উইকেটে ৩৫৭ রানে দ্বিতীয়দিন শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ২১৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।
রুট দিনের শুরুতে ১৮৪ রানে উইকেটে এসেছিলেন। টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নেতৃত্বের অভিষেকে দ্বিশতকের হাতছানি ছিল। মরনে মরকেলের বলে ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় দশ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে। ১৯০ রানে থেমেছে মহাকাব্যিক ইনিংসটি।
রুটের জুটি সঙ্গী আরেক অপরাজিত মঈন আলি থেমেছেন ৮৭ রানে। পরে শেষদিকে ঝড় তুলেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। সেই ২০১৩ সালে অ্যাশেজে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ফিফটি পেয়েছিলেন। এরপর কেটে গেছে অর্ধশতকহীন ৬৫টি ইনিংস। শুক্রবার কাটালেন সেই খরা। ৮ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ বলে ৫৭ রানে ফিরেছেন এই পেস-অলরাউন্ডার।
প্রোটিয়াদের হয়ে তিন পেসার মিলে সবকটি উইকেট ভাগ করে নিয়েছে। মরনে মরকেল ৪টি উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা। ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ভারনন ফিনল্যান্ডার ও কাগিসো রাবাদা।
যেখানে সফরকারী পেসাররা দাপট দেখিয়েছেন, সেখানেই জ্বলে উঠলেন স্বাগতিক স্পিনার মঈন আলি। সাউথ আফ্রিকার শুরুর তিন উইকেটের দুটিই তার। ইনফর্ম হাশিম আমলা (২৯) ও এই টেস্টের অধিনায়ক ডিন এলগারকে ৫৪ রানে ফিরিয়েছেন তিনি।
সেটিই মঈনকে বসিয়ে দিয়েছে দারুণ এক অর্জনের পাশে। টেস্টে দুই হাজার রান ও একশ উইকেটের ডাবল অর্জনের পঞ্চম দ্রুততম ক্রিকেটার এখন তিনি। ৩৭তম টেস্টে এসে এই কীর্তি গড়লেন। আরো ২৮ ক্রিকেটারের আছে অনন্য এই অর্জন। আর তারচেয়ে কম টেস্টে এই ডাবল আছে কেবল টনি গ্রেগের (৩৭)।
শুরুর উইকেটটি অবশ্য নিয়েছিলেন ব্রড। হেইনো কুনকে (১) ফিরিয়ে। পরে জেপি ডুমিনিকেও (১৫) ফিরিয়েছেন তিনি। শেষ বেলায় ৩৩ বছর বয়সে অভিষিক্ত থিউনিস ডি ব্রুয়েনকে (৪৮) ফিরিয়ে প্রোটিয়াদের সময়টা কঠিন করে তুলেছেন অভিজ্ঞ জেমস অ্যান্ডারসন।
টেম্বা বাভুমা ৪৮ ও নাইটওয়াচম্যান রাবাদা ৯ রানে তৃতীয় দিনের লড়াই শুরু করবেন। উইকেটে আসতে বাকি কেবল একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান, কুইন্টন ডি কক। প্রোটিয়াদের কাজটা তাই একটু কঠিনই।







